


ত্বকের উপর তিল থাকা স্বাভাবিক বিষয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ত্বকের মেলানোজোম নামক রঞ্জক কণা এক জায়গায় পুঞ্জীভূত হয়ে তিল বা ‘নিভাস’ তৈরি করে। ভারতীয়দের ত্বকের গঠন অনুযায়ী অধিকাংশ তিলই নিরীহ বা বিনাইন প্রকৃতির। তবে কিছু ক্ষেত্রে তিল থেকে ত্বকের ক্যানসার বা মেলানোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ত্বকের উপর থাকা তিলের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না তা দেখা দরকার। তিল পরীক্ষার মূলমন্ত্র হল এ বি সি ডি ই সূত্র মেনে চলা—
অ্যাসিমেট্রি বা অপ্রতিসম: তিলের একদিকের অংশের সঙ্গে অন্যদিকের আকার বা রঙের মিল না থাকলে সাবধান হন।
বর্ডার বা তিলের সীমানা: তিলের চারপাশ যদি আঁকাবাঁকা, অস্পষ্ট বা খাঁজকাটা হয়ে যায় তাহলেও সতর্ক হতে হবে।
কালার বা রং: পুরো তিলটি একটি রঙের না হয়ে যদি সেখানে লাল, সাদা বা কালচে রঙের সংমিশ্রণ দেখা দেয়।
ডায়ামিটার বা ব্যাস: তিলের আকার যদি ৬ মিলিমিটারের (পেনসিলের পেছনে থাকা ইরেজারের মতো) চেয়ে বড়ো হয় তাহলেও সাবধান হন।
ইভোলভিং অথবা পরিবর্তন: তিলের আকার, আকৃতি বা রঙে হঠাৎ কোনো দ্রুত পরিবর্তন আসাও চিন্তার বিষয়।
অন্যান্য সতর্কতা
শরীরের অনেকগুলো তিলের মধ্যে কোনো একটি তিল বাকিগুলোর চেয়ে আলাদা এবং দৃষ্টিকটু হলে, সেই তিলকে সন্দেহ করা দরকার।
ঝুঁকি ও সতর্কতা
নতুন করে গজিয়ে ওঠা তিল বা পুরনো তিলের হঠাৎ বৃদ্ধি, চুলকানি, রক্তপাত অথবা রস পড়া মেলানোমার লক্ষণ হতে পারে। তিলের চারপাশে ছোটো ছোটো নতুন করে দানার মতো অংশ দেখা দিলেও সতর্ক হতে হবে। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বিশেষ করে হাতের তালু এবং পায়ের পাতার তিলগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যেগুলোকে অ্যাক্রাল মেলানোমা বলা হয়। এমনকি মেলানোমার পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
আধুনিক রোগ পরীক্ষা
ডার্মোস্কোপির সাহায্যে ত্বক পরীক্ষা করান নামক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। যন্ত্রটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগনিফিকেশন লেন্সের মাধ্যমে ত্বকের গভীর তলদেশ পরীক্ষা করতে সাহায্য করে।
চিকিত্সা
কোনো তিল নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হলে, ১ সেন্টিমিটার বাড়তি মার্জিন রেখে সম্পূর্ণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিল বাদ দেওয়া হয়।
এরপর বায়োপসি করা হয়। মনে রাখবেন বাড়িতে বসে চুন বা অ্যাসিড দিয়ে তিল তোলার চেষ্টা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে ত্বকে প্রদাহ বা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
পরিশেষে, তিল নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ তিলই ভয়ের কারণ নয়। তবে যাদের শরীরে তিলের সংখ্যা অনেক বেশি (১০০-এর উপরে) অথবা বড়ো বড়ো তিল আছে, তাদের নিয়মিত ত্বকের পরীক্ষা করানো উচিত। নিয়মিত ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ এবং ত্বকের সচেতনতাই পারে যে কোনো বড়ো বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক