Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

নীরোগ থাকতে খেলতে নামুন বড়োরাও

ছোটোবেলার কথা মনে আছে? যখন সারা দিন দৌড়ঝাঁপ, লুকোচুরি ও কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতে কোনো ক্লান্তি ছিল না!

নীরোগ থাকতে  খেলতে নামুন বড়োরাও
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছোটোবেলার কথা মনে আছে? যখন সারা দিন দৌড়ঝাঁপ, লুকোচুরি ও কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতে কোনো ক্লান্তি ছিল না! কিন্তু বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই খেলার সময় যেন কোথায় হারিয়ে যায়। আমরা সেই চঞ্চলতা ও কল্পনাশক্তির জায়গাটা পূরণ করে ফেলি রাজ্যের ব্যস্ততা ও গাম্ভীর্য দিয়ে। আমরা ধরে নিই, খেলাধুলা শুধু ছোটোদের জন্য!

Advertisement

কিন্তু বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। শিশুদের যেমন শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা প্রয়োজন, ঠিক একইভাবে বড়োদেরও সুস্থ ও চিন্তামুক্ত থাকতে খেলার খুব দরকার!
বড়োদের খেলা কেমন হবে
বড়োদের খেলা মানেই কিন্তু মাঠে গিয়ে ছোটোদের মতো দৌড়াদৌড়ি করা বা খেলনা নিয়ে বসা নয়। এটি আসলে বয়সের সঙ্গে রূপ বদলায়। বড়োদের খেলা মানে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।
বড়োদের খেলা হতে পারে শারীরিক, সামাজিক, সৃজনশীল কিংবা পুরোটাই কল্পনার। হয়তো আপনি কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন, বন্ধুদের জোকস বলে হাসাহাসি করছেন, কোনো পাজল মেলাচ্ছেন বা শুধু নিজের আনন্দের জন্য একটা কাজ করছেন। এগুলো সবই বড়োদের খেলা। নির্দিষ্ট কোনো ফলাফলের আশা না করে, শুধু কৌতূহল ও আনন্দ নিয়ে এমন খেলায় ডুবে যাওয়ার এই মানসিকতাই হল প্রকৃত খেলা।
খেললে আমাদের কী লাভ
গবেষণা বলছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত এ ধরনের আনন্দদায়ক খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁরা জীবনের চাপ অনেক ভালোভাবে সামলাতে পারেন। নিউজিল্যান্ডের কয়েকটি পরিবারের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, রুটিনের বাইরের এসব খেলাধুলা বড়োদের মানসিক চাপ তো কমায়ই, সেই সঙ্গে পরিবারের সবার মধ্যে সম্পর্কও মজবুত করে।
কাজের চাপ থেকে মস্তিষ্ককে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল খেলা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এর দারুণ প্রভাব রয়েছে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে খেলাধুলা। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা কাজের ফাঁকে একটু আনন্দ বা খেলাধুলায় মাতেন, তাঁরা অন্যদের প্রতি অনেক বেশি সহানুভূতিশীল ও ইতিবাচক হন। খেলাধুলার বয়সের ব্যবধানও মুছে দিতে পারে। বড়োরা যখন ছোটোদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন, তখন বয়স, পদবি বা সামাজিক মর্যাদার তফাতগুলো আর থাকে না। দুই প্রজন্মের মধ্যে একটি সুন্দর সেতু তৈরি করে খেলাধুলো। 
শহরগুলো কি বড়োদের খেলার উপযোগী
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বড়োদের জন্য সবচেয়ে ভালো খেলার পরিবেশ হল, যেটি দেখতে ঠিক প্রথাগত খেলার মাঠের মতো নয়; বরং সাধারণ হাঁটাচলার পথেই খেলার উপাদান ছড়িয়ে থাকে। যেমন, রাস্তার পাশে বড়ো বড়ো সিঁড়ি, হাঁটার পথে একটু ভিন্ন রকম পাথরের ধাপ, কিংবা শহরের কোনো এক কোণে রাখা মিউজিক্যাল সুইং! এগুলো বড়োদেরও একটু থেমে আনমনে খেলা করতে উৎসাহ জোগাবে। এ ধরনের নকশা  মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দারুণ পদক্ষেপ হতে পারে।
লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই!
আমাদের সমাজে বড়োদের খেলাধুলাকে লজ্জাজনক বা বেমানান হিসেবে দেখা হয়। এমন মানসিকতার কারণে অনেকেই নিজের ভেতরে থাকা সেই চঞ্চল শিশুটাকে লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু যেদিন থেকে আমরা বুঝব, বড়দের খেলাধুলা কোনো অপরাধ বা লজ্জার বিষয় নয়, সেদিন থেকে আমাদের চারপাশের পরিবেশটা আরও অনেক বেশি সজীব ও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
লিখেছেন: সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ