অরূপ সরকার, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বাজারগুলিতে পুরুষদের নানান ডিজাইনের হরেকরকম পোশাক বিক্রি হলেও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে পাঞ্জাবির চাহিদা তুঙ্গে। চৈত্র সেলের বাজারে কচিকাঁচা থেকে বয়স্করাও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পাঞ্জাবি কিনতে ভিড় জমিয়েছিলেন। ক্রেতাদের দাবি, বাংলা বর্ষবরণে বাঙালিআনার সাজে সেজে উঠতে মানানসই পোশাক হল একমাত্র পাঞ্জাবি। ব্যবসায়ীদের দাবি, চৈত্র মাসে ঈদ থাকায় ও পয়লা বৈশাখের কারণে এবার পাঞ্জাবির চাহিদাও ছিল ভালো। নব প্রজন্মের মধ্যেও পাঞ্জাবি পরার হিড়িক বাড়ছে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বছরের প্রথমদিন নতুন পোশাক পরার রেওয়াজ বহু যুগ ধরে চলে আসছে। নতুন বর্ষকে বরণ করতে নতুন পোশাক পরার পাশাপাশি মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় জমাবেন অনেকে। একসময় বাঙালি পোশাক মানেই মহিলাদের শাড়ি ও পুরুষদের ধুতি-পাঞ্জাবি পরার চল ছিল। পরে ধুতি-পাঞ্জাবি পরার চল কিছুটা কমে যায়। ধুতি- পাঞ্জাবি ছেড়ে নানা ফ্যাশনের জামাপ্যান্টের দিকে ঝোঁক বাড়ে যুবক থেকে বয়স্কদের। পোশাকের ক্ষেত্রে বাঙালিয়ানা রুচির পরিবর্তন ঘটে। মাঝে বহু বছর পাঞ্জাবির দোকানগুলিতে বিক্রি কিছুটা কমে গিয়েছিল। টেলিভিশনের ধারাবাহিকে পুরনো দিনের দৃশ্য তুলে ধরার সময় অভিনেতারা পাঞ্জাবি পরতেন। সেকেলে পোশাকের রেওয়াজ তুলে ধরেন টেলিভিশনের পর্দায়। আর তাতেই ফের পাঞ্জাবি, ধুতি ও পাজামা নব প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। যদিও আধুনিক যুগে ধুতির ফ্যাশন বদলেছে অনেকটাই। বর্তমানে বিয়েবাড়ি থেকে যে কোনও অনুষ্ঠানে ও পুজো-আর্চনায় ছোট শিশু থেকে নতুন জেনারেশন ও প্রবীণরা পাঞ্জাবি, রেডিমেড ধুতি ও পাজামা পরছেন। পাঞ্জাবি ক্রেতা দেবব্রত সাহা ও বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নানান ডিজাইনের জামাপ্যান্ট সবাই পরেন। কিন্তু তাতে ঠিক বাঙালি সংস্কৃতি বজায় থাকে না। বাঙালি ও বাংলার পোশাকের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বজায় রাখতে পাঞ্জাবি-পাজামা সেরা পোশাক। আমরা এখন যে কোনও অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করি।
বেনাচিতি বাজারের পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ সাহা ও শ্যামল দত্ত বলেন, এই বাজারে প্রায় ১২টি পাঞ্জাবির দোকান রয়েছে। আমাদের দোকান প্রায় ৫০বছরের পুরনো। একসময় পাঞ্জাবি প্রায় সবাই পরতেন। মাঝে কয়েক বছর পাঞ্জাবি পরার চল কিছুটা কমে যায়। কিছু বয়স্ক লোকজনের জন্য কোনওরকমে ব্যবসা টিকে ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নতুন প্রজন্মের যুবকদের মধ্যে পাঞ্জাবি পরার ঝোঁক বাড়ছে। সারা বছর যে কোনও অনুষ্ঠানে বা পুজো-পার্বণে পাঞ্জাবির কদর বেড়েছে। কিছুদিন আগে ঈদ থাকায় ও পয়লা বৈশাখের জন্য ভালো পাঞ্জাবি বিক্রি হয়েছে। যতদিন যাচ্ছে পাঞ্জাবির চাহিদাও বাড়ছে। আধুনিক ডিজাইনের পাঞ্জাবির জোগানও বাড়ছে। ক্রেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন।