সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র তারাপীঠে নিত্যদিন কয়েক হাজার পর্যটক আসা-যাওয়া করছেন। বেড়েছে লজ ও হোটেলের ব্যবসা। দোকানগুলিতে বিক্রিবাটাও বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু, সরকারি নির্দেশ মানার বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন পর্যটক এবং ব্যবসায়ী উভয়েই। দেদার প্লাস্টিক, পলিথিন ও থার্মোকলের ব্যবহার চলছেই। এবার এই তীর্থভূমিকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে অভিযানে নামছে টিআরডিএ।
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে তারাপীঠের ভোল পাল্টে দিয়েছে। ঝাঁ-চকচকে ডাবল লেনের রাস্তা সহ দ্বারকার পাড়ে বেড়ানোর জন্য পার্ক ও মন্দিরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। যার ফলে আগের তুলনায় তারাপীঠে পর্যটকদের আনাগোনা কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ তিথিগুলিতে লজ, হোটেলগুলিতে ঘর ভাড়া পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ছে পর্যটকদের কাছে। বর্তমানে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যথেচ্ছ হারে প্লাস্টিকের গ্লাস, থার্মোকলের পাতা, বাটির ব্যবহার। অভিযোগ, তা যত্রতত্র ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী থেকে পর্যটকরা। চুপিসারে দ্বারকা নদেও তা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলত, দূষিত হচ্ছে তীর্থক্ষেত্রের পরিবেশ। প্রশাসন এর আগে বেশ কয়েকবার তারাপীঠে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। এবিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অভিযান বন্ধ থাকার সুযোগে তীর্থক্ষেত্রে দেদার প্লাস্টিক আর থার্মোকলের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এলাকার পাশাপাশি দ্বারকা নদ দূষিত হয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় তারাপীঠকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে পরিবেশ বিষয়ক একটি সংস্থাকে যুক্ত করেছে টিআরডিএ। যারা দীঘাতেও কাজ করেছে। বুধবার থেকেই ওই সংস্থার কর্মীরা সার্ভে করতে মাঠে নেমে পড়বেন।
টিআরডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলগুলিতে প্রতিদিন কত পরিমাণে বর্জ্য জমা হচ্ছে? হোটেলকর্মীদের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা কতখানি? সকলকে এইসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে প্লাস্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কেও প্রচার করবেন ওই সংস্থার কর্মীরা। এই সমীক্ষার ফলাফল থেকে হোটেলগুলির জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। টিআরডিএর পক্ষ থেকে হোটেলগুলির বর্জ্য সংগ্রহকারী এজেন্সির কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেবেন ওই সংস্থাটির কর্মীরা। এরপরই তারাপীঠজুড়ে বিভিন্ন ‘পয়েন্ট’ করে দেওয়া হবে। সেখানে হোটেলগুলি বর্জ্য ফেলবে। সেখান থেকে পচন ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথক বাক্সে সংগ্রহ করবেন এজেন্সির কর্মীরা। সেক্ষেত্রে হোটেলগুলিতে কিউআর কোড দেওয়া হবে। এজেন্সির কর্মীরা নিত্যদিন সেই কোড স্ক্যান করে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। তাতে কোন হোটেল থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য আসছে, নিত্যদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না, সেসব তথ্য সহজেই মিলবে। সেইসঙ্গে তারাপীঠে প্রবেশের রাস্তাগুলিতে চেকিং পয়েন্ট করা হবে। সেখানে গাড়ি থেকে আগেই প্লাস্টিক সরিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সেখান থেকেই খুব স্বল্পমূল্যে পচনশীল ব্যাগ সংগ্রহ করা যাবে। অর্থাৎ, প্লাস্টিক নিয়ে তারাপীঠে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, সার্ভের কর্মীরা আমাদের এজেন্সির লোকদের এই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবেন। সেইমতো কাজ করবে এজেন্সি। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের জন্য পর্যটক এবং স্থানীয়দের আরও বেশি করে উৎসাহ দেওয়া হবে। যা প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, খুব শীঘ্রই তারাপীঠে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে। দ্রুত ‘নো প্লাস্টিক জোন’ হতে চলেছে এই তীর্থভূমি। ফলে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হবে।