Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিষেধ অমান্য করে সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা ধরে আনছে ট্রলার, প্রশাসন নীরব

গভীর সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা ধরে নিয়ে আসছে ট্রলারগুলি। অথচ এই জলজ প্রাণীকে ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্য বন্দরগুলিতে ছবি দিয়ে সাইনবোর্ডে পরিষ্কার করে তা লেখা রয়েছে।

নিষেধ অমান্য করে সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা ধরে আনছে ট্রলার, প্রশাসন নীরব
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: গভীর সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা ধরে নিয়ে আসছে ট্রলারগুলি। অথচ এই জলজ প্রাণীকে ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্য বন্দরগুলিতে ছবি দিয়ে সাইনবোর্ডে পরিষ্কার করে তা লেখা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই হাঙরের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। যা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, সমুদ্রে জাল ফেললে মাঝে মধ্যে হাঙরের বাচ্চাগুলি জড়িয়ে যায়। এগুলি ধরার জন্য সমুদ্রে আলাদা করে জাল পাতা হয় না। এক মৎস্যজীবী পিন্টু দাস বলেন, ‘মাঝে মধ্যে জালে উঠে আসে হাঙরের বাচ্চা। জাল টেনে তোলার পর সেগুলি মারা যায়। তখন সেগুলি নদীতে না ফেলে নিয়ে আসা হয়।’

Advertisement

সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘এক সময় দক্ষিণ ভারতে হাঙরের চাহিদা ছিল। সেই সময় এখান থেকে হাঙর ওখানে পাঠানো হতো। তখন মৎস্যজীবীরা হাঙর ধরার লক্ষ্য নিয়ে সমুদ্রে জাল ফেলতেন। কিন্তু এখন আর তা হয় না। বর্তমানে কেউ হাঙর ধরার জন্য সমুদ্রে জাল ফেলেন না। অন্য মাছ ধরার সময় মাঝেমধ্যে দু’-একটি হাঙরের বাচ্চা জালে জড়িয়ে যায়। তবে এটা ঠিক যে, এগুলি ধরা উচিত নয়। প্রশাসনের আরও বেশি নজরদারি করা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, পরিবেশবিদ সৌম্যকান্তি জানা বলেন, ‘সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে হাঙর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এছাড়াও এরা হল সর্বোচ্চ খাদক। তাই এরা বাস্তুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এই প্রাণীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। মূলত বেআইনি শিকারের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৯৭২ সালে ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের ১ নম্বর তালিকায় এই প্রাণীর নাম রয়েছে। কারণ এরা সর্বাপেক্ষা বেশি বিপন্ন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই প্রাণীগুলিকে ধরা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হতে হবে। না হলে আগামী দিনে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে।’ এ বিষয়ে ডায়মন্ডহারবারের সহ মৎস্য অধিকর্তাকে (সামুদ্রিক) ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ