সংবাদদাতা, হলদিয়া: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর এবার হলদিয়া ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হওয়ার আশা করছেন বাসিন্দারা। একের পর এক শিল্প দুর্ঘটনার পর হলদিয়ার শিল্প মহলও বারবার প্রশাসনের কাছে ট্রমা কেয়ার সেন্টার চালুর দাবি তুলেছে। ওই ট্রমা কেয়ার সেন্টারে অস্থায়ীভাবে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল সরিয়ে আনারও পরিকল্পনা করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
পিডব্লুডি দপ্তর মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করেছে। সেজন্য বিকল্প পরিকাঠামো হিসেবে ট্রমা সেন্টারকে বেছে নেয় স্বাস্থ্যদপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ট্রমা কেয়ারের আপৎকালীন পরিষেবা এবং সাধারণ চিকিৎসা দু’ধরনের পরিষেবা কীভাবে এক ছাতার তলায় দেওয়া সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। ট্রমা কেয়ার সহ শিল্পশহরের সামগ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে চলতি সপ্তাহেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান সচিবের হলদিয়া আসার কথা রয়েছে। তার আগে ট্রমা সেন্টার খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(সিএমওএইচ) বিভাস রায়। এবিষয়ে তাঁরা হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(এইচডিএ) সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। পাশাপাশি হলদিয়া হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবার জন্য পুরনো এসডিও অফিস, প্রসূতি মায়েদের জন্য সিপিটি হাসপাতালকেও মহকুমা হাসপাতালের বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়েছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়ায় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে দু’টি সমস্যা রয়েছে। একদিকে মহকুমা হাসপাতাল ভেঙে পড়ছে, রোগী, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে, হাসপাতালের মতো নবনির্মিত ট্রমা কেয়ার সেন্টারের বিশাল কাঠামো ৬ বছর ধরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
এইচডিএর উদ্যোগে ওই ট্রমা সেন্টার তৈরি হয়েছিল। ওইসময় এইচডিএর চেয়ারম্যান ছিলেন শুভেন্দুবাবু। ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬ কোটি টাকা। এজন্য হলদিয়া আইওসি রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ এইচডিএকে ৫কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। নির্মাণের পর ছ’বছরের বেশি সময় ধরে ট্রমা সেন্টার পড়ে রয়েছে। তৃণমূলের আমলে প্রথমে ওই ট্রমা সেন্টার কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা হেল্থ এজেন্সিকে দিয়ে চালু করার চেষ্টা হয়। বারবার সমীক্ষা চালানো হয়। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে ট্রমা সেন্টার চালু করার কাজ এগোয়নি বলে অভিযোগ। উলটে ট্রমা সেন্টার দেখভালের অভাবে বেহাল হয়ে গিয়েছে। জলের পাইপলাইন, স্যানিটারি সিস্টেম, বিদ্যুতের কাজও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ট্রমা সেন্টার চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জেলাশাসক বলেন, ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখেছি। চালু করতে গেলে কী ধরনের সিভিল ওয়ার্ক দরকার বা কী উপকরণ লাগবে সেবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এইচডিএ ও পিডব্লুডি এস্টিমেট করছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যদপ্তর এইচডিএকে ৭লক্ষ টাকা দিয়েছে প্রাথমিক কাজের জন্য। সিএমওএইচ বিভাস রায় বলেন, হলদিয়ায় ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজন। এইচডিএর ট্রমা সেন্টার শিল্প দুর্ঘটনায় আপৎকালীন চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিষেবাও দিতে পারবে। প্রসঙ্গত, মাসদেড়েক আগে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় মহকুমা হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার ভিজিট করেন। এরপর পড়ে থাকা ট্রমা সেন্টারকে মহকুমা হাসপাতালের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের প্রাথমিক উদ্যোগ নেন। একাংশে ট্রমা সেন্টার এবং অন্য অংশে হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন। জানা গিয়েছে, এইচডির তরফে ট্রমা সেন্টার পুরোপুরি চালুর
জন্য ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা একটি টেন্ডার ডাকা
হয়েছে।