নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুম্বই-কলকাতায় সিরিয়াল ও সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার নামে চলছিল প্রতারণা। নেতাজিনগর এলাকায় রীতিমতো অফিস খুলে তোলা হয় কোটি কোটি টাকা। লোক ঠকানোর এই কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি এক রূপান্তরকামীকে গ্রেপ্তার করেছে নেতাজিনগর থানার পুলিস। ধৃতের নাম হেনা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রূপান্তরকামী ও তাঁর কয়েকজন শাগরেদ বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানায়, তাদের একটি প্রোডাকশন হাউস রয়েছে। টলিউড ও বলিউডে তারা অনেকগুলি সিরিয়াল প্রয়োজনা করছে। নামী পরিচালকরা তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন। শীঘ্রই বেশ কিছু নতুন সিরিয়াল ও সিনেমা বানাতে চলেছে তারা। তাই অভিনয়ের জন্য উঠতি নায়ক-নায়িকা দরকার। কিশোর-কিশোরী বা কমবয়সি তরুণ-তরুণীদেরই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল বিজ্ঞাপনে। তা দেখে দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির অনেকেই যোগাযোগ করেন। প্রত্যেককে আলাদা আলাদা সময়ে আসতে বলা হয়। প্রাথমিক ইন্টারভিউয়ের পর আরও কয়েকটি ‘টেস্ট’ নেওয়া হয়। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে একাধিক ছবি নেওয়া হয় প্রত্যেকের। আলাদা আলাদা সময়ে তরুণ-তরুণীদের ডেকে বলে দেওয়া হতো, কী ধরনের কাজ, আর কারা থাকবেন, কোথায় কোথায় শ্যুটিং হবে ইত্যাদি। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সেখানে বিভিন্ন সময় হাজির করানো হতো নামী প্রযোজক ও অভিনয় শিল্পীদেরও। তাঁরা ‘হবু’ নায়ক-নায়িকাদের আশ্বস্ত করতেন। এই প্রযোজনা সংস্থা কীভাবে কাজ করছে, তাঁরাও এখানে কাজ করবেন বলে জানাতেন। এভাবে আস্থা অর্জনের পর তরুণ-তরুণীদের বলা হতো, অভিনয় করতে গেলে দিতে হবে মোটা টাকা। তা না হলে কাজের সুযোগ মিলবে না। ঝকঝকে কেরিয়ার আর গ্ল্যামারের আশায় অনেকেই দাবি মতো টাকা দিয়ে দেন। সূত্রের খবর, এক-একজনের কাজ থেকে পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য টাকার অঙ্ক ছিল বেশি। এভাবে টাকা দেওয়ার পরও কোনও কাজ না পেয়ে তরুণ-তরুণীরা ওই অফিসে যান। অভিযোগ, সেখান থেকে তাঁদের নানাভাবে ঘোরানো শুরু হয়। এক সময় অফিস গুটিয়ে চম্পট দেন প্রোডাকশন হাউসের কর্তারা। এরপরই অভিযোগ দায়ের হয় নেতাজিনগর থানায়। প্রাথমিকভাবে ৫৮ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্ত এগতে শুরু করলে প্রতারণার টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকে। সূত্রের খবর, একশোর বেশি তরুণ-তরুণী এভাবে প্রতারিত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত প্রতারণার টাকার অঙ্ক প্রায় ৩০ কোটি। শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন জেলা থেকে তারা টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের পান্ডা ওই রূপান্তরকামীকে।