নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবান্ন সহ রাজ্য সরকারের অন্যান্য অফিস থেকে কোনো ফাইল যাতে বাইরে না বেরিয়ে যায়, পালাবদলের পরই তার ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা এখনও আধিকারিকদের অফিসে ঢোকা এবং বেরনোর সময় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ভালোভাবে দেখে নিচ্ছে, কেউ কোনো ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন কি না। এরপর রাজ্যের নজরে সরকারের অধীনস্ত সহায়তা প্রাপ্ত সংস্থা, উন্নয়ন পর্ষদ, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা গত ১৫ বছরের আর্থিক লেনদেন। সংস্থাগুলির মাধ্যমে কোনো আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খুঁজতে ইন্টারনাল অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।
কী এই ইন্টারনাল অডিট? এর দায়িত্বে কারা থাকেন? রাজ্য অর্থদপ্তরের নিজস্ব একটি ইন্টারনাল অডিট ব্রাঞ্চ রয়েছে। আবার অনেক দপ্তরও ফিনান্স সার্ভিসের অফিসারদের দিয়ে সময় সময় ইন্টারনাল অডিটের মাধ্যমে দেখে নেন, আদৌ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে কি না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকছে কি না। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে কোনো প্রকল্পের কাজের জন্য বেশি অর্থ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব দেখা হয় ইন্টারনাল অডিটে। বছরের যে কোনো সময়েই এই অডিটের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হচ্ছে কি না তা যাচাই করে নিতে পারে রাজ্য। তবে বিগত কয়েক বছরে নিয়মিত এই কাজ না হওয়ায় এই ব্রাঞ্চে নিযুক্ত প্রায় ৭০ জন আধিকারিককে অর্থদপ্তরের অন্যান্য শাখায় কাজে লাগানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে ফের এই সমস্ত আধিকারিকের ইন্টারনাল অডিট ব্রাঞ্চে ফিরিয়ে নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে এই অডিট করানোর জন্য নির্দেশ এসেছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে। ফলে পর্যায়ক্রমে কীভাবে কাজ এগোবে, তার পরিকল্পনা তৈরি হবে। এই ‘প্ল্যানিং ডকুমেন্টস’ তৈরি হলেই ইন্টারনাল অডিট সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। প্রসঙ্গত, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতেও স্পেশাল অডিট হবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
সূত্রের খবর, রাজ্যের অধীন ও আর্থিক সহায়তায় চলা সংস্থাগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন, পরিবহণ সংস্থা ইত্যাদি সেই তালিকায় থাকতে চলেছে বলে ধরে নিচ্ছেন আমলারা। এর আগে বালি পুরসভার ইন্টারনাল অডিট করানো হয়েছিল। সেক্ষেত্রে পুরসভাগুলি এই তালিকায় থাকবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও ঠিক একইভাবে ইন্টারনাল অডিটে জোর দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬-এ ফের পরিবর্তনে পরও একই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই অডিটে দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক, ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর থাকছে প্রশাসনিক মহলের।