Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশদ্রোহী! সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ফের শক্তি প্রদর্শন

খবর ছিল শনিবার রাতেই। পড়ুয়ারা জেনেছিলেন, রবিবার বিকালে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণের মিছিল আসবে সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে।

দেশদ্রোহী! সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ফের শক্তি প্রদর্শন
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খবর ছিল শনিবার রাতেই। পড়ুয়ারা জেনেছিলেন, রবিবার বিকালে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণের মিছিল আসবে সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। পড়ুয়া-শিক্ষক-শিল্পীরা পুলিশের কাছে এই মিছিল বাতিলের জন্য খোলা চিঠি লিখেছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছেও চিঠি দিয়েছিলেন এসআরএফটিআই ও পুনের এফটিআইআই পড়ুয়ারা। কিন্তু সেইসব আবেদন বাস্তবের মুখ দেখল না। এদিন বিকাল ৫টা নাগাদ হিন্দু জাগরণের মিছিল এসআরএফটিআইয়ের মূল ফটকের সামনে এল। গেটে টাঙানো বি আর আম্বেদকর ও মহাত্মা গান্ধীর ছবি মাটিতে লুটোপুটি খেল। মুহুর্মুহু বোতল, ইট, লাঠি পড়ল ক্যাম্পাসের ভিতর। তারপর হনুমান চালিশা, স্তোত্র পাঠ হল। ঝাঁকুনির চাপে গেট ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হল। হিন্দু জাগরণের নেতৃত্বের অবশ্য পালটা দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতর থেকেও ইট-বোতল এসেছে। আর তাঁরা সাফ বললেন, ‘শক্তি দেখাতে এসেছি।’

Advertisement

গত ২৭ সেপ্টেম্বর আরএসএসের একটি শাখা সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে বচসার সূত্রপাত। এদিন বিকালে অজয়নগর থেকে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিল করে ওই সংগঠন। তাদের বক্তব্য, ভারত মাতা-স্বামীজির অপমানের বিরুদ্ধে এই মিছিল। আটকাতে এসএরএফটিআইয়ের পাশের রাস্তায় কয়েকটি গার্ডরেল নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল। হেলায় সেই ‘বাধা’ উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে এগিয়ে যায় মিছিল। কয়েকজন গেটের উপর উঠে গেট ভাঙার চেষ্টা করেন। বামপন্থীদের উদ্দেশে উড়ে আসে ‘দেশদ্রোহী’, ‘দিমাগি নকশাল’-এর মতো স্লোগান। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জল-নোংরা ভরতি বোতল, ইট, লাঠি ছোড়া হয় ক্যাম্পাসের ভিতর। তখন পড়ুয়া-শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের ভিতর গান্ধীজি, সত্যজিত্ রায়, মৃণাল সেনের ছবি হাতে ‘গো ব্যাক আরএসএস’, বিরসা-ফুলে-আম্বেদকরের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। একটা সময় মিছিলকারীরা হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বোতল না ছোড়ার আবেদনও রাখেন মিছিলের নেতৃত্ব। আচমকাই মিছিলকারীরা কয়েকটি গেরুয়া পতাকা ওই গেটের উপর বেঁধে দেন। সূত্রের খবর, একজন পুলিশ কর্মীকে ছাত্র ভেবে মারধর করা হয়েছে। পুলিশ ওই মিছিলকারীদের সরিয়ে বাইপাসের উপর নিয়ে যায়। তারপরই দেখা যায় ক্যাম্পাসের ভিতর পড়ুয়াদের উচ্ছ্বাস। তাঁরা গেটের গেরুয়া পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। ফের উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মিছিলকারীরা আবার গেটের সামনে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। কয়েকজন গেটে গিয়ে ফের পতাকা টাঙিয়ে দেন। পরে আবার সেই পতাকা খোলা হয়। 
মিছিলকারীরা চলে গেলেও ক্যাম্পাসের ভিতরের উত্তেজনা থামেনি। এই মিছিলের খবর থাকার পরেও এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ কেন কিছু করল না? এই প্রশ্ন নিয়ে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরাকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখেন পড়ুয়ারা। তাঁদের সামনে নিশ্চুপই ছিলেন উপাচার্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ