Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেন, বাসে ঠাসা ভিড়, জলপথেও ধর্মতলায় ঘাসফুল কর্মী-সমর্থকরা

পথ চলা শুরু হয়েছিল রাতেই। দিনের আলোতে সেই পথ চলা হয়ে উঠল ঢেউ। সড়ক থেকে জলপথ, ট্রেনের ভিড় মিশল মিছিলে, ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়া সমর্থকদের স্রোত দেখল হুগলি।

ট্রেন, বাসে ঠাসা ভিড়, জলপথেও ধর্মতলায় ঘাসফুল কর্মী-সমর্থকরা
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পথ চলা শুরু হয়েছিল রাতেই। দিনের আলোতে সেই পথ চলা হয়ে উঠল ঢেউ। সড়ক থেকে জলপথ, ট্রেনের ভিড় মিশল মিছিলে, ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়া সমর্থকদের স্রোত দেখল হুগলি। অভিমুখ একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলা। গত কয়েকদিন ধরেই ২১ জুলাই নিয়ে জেলাজুড়ে আবেগের তুফান উঠেছিল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই আবেগ হয়ে উঠল ঝড়। সোমবার জিটি রোড থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, জনস্রোত দেখেছে। বাস-চারচাকা  গাড়ির মিছিল হয়েছে। আর দিনের একাধিক সময়ে হাওড়ামুখী ট্রেনে দেখা গিয়েছে বাদুড়ঝোলা ভিড়। শুধুই সুশৃঙ্খল ভিড় ছিল না তাই, আবেগের বাহুল্য দেখা গিয়েছে। ভিড়ের মুখে কখনও কখনও কলবর হয়ে জেগেছে গান।

Advertisement

উন্মাদনার সেই মুহুর্তগুলির কথা শোনা গিয়েছে হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অসীমা পাত্রের মুখে। তিনি বলেন, অনেকেই রাতেই পাড়ি দিয়েছিলেন কলকাতাতে। আর ভোররাত থেকে যেভাবে আমার সহকর্মী, সমর্থক নাগরিকরা কলকাতায় পাড়ি দিয়েছেন, তা প্রায় বেনজির। কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহের যে চিত্র আমি দেখেছি, শুনেছি, তাতে নিজেও আবেগপ্রবণ হয়েছি। কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহকে কুর্নিশ করতেই হবে। 
হুগলি জেলার নানা দিক দিয়ে কলকাতা যাওয়া যায়। আর তাই জনস্রোত যেন মাকড়শার জালের মতো হয়ে ভোররাত থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল জেলাজুড়ে। কখনও নদীপথে ভিড় জমাট বেঁধেছে তো কখনও সড়ক পথে ছিল জনগর্জন। কখনও আবার চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল, শ্রীরামপুর, ভদ্রেশ্বর, কোন্নগর, একাধিক স্টেশন থেকে বাদুড়ঝোলা হয়ে তৃণমূল সমর্থকরা কলকাতায় গিয়েছেন। সকাল ৯টা পর্যন্ত হুগলির একাধিক স্টেশন চত্বরে ভিড়ের দাপট ছিল নজরকাড়া। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, জিটি রোড ধরে অন্যদিনের থেকে প্রায় আটগুণ বেশি গাড়ি চলেছে সোমবার। হুগলির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস তুলে নেওয়ায় আমজনতার কিছু ভোগান্তি হয়েছে। কিন্তু সেইসঙ্গে নজর কেড়েছে যে কোনও উপায়ে কলকাতা যাওয়ার তাগিদ। সন্দেহ নেই, কলকাতায় যাওয়ার জন্য নেতাদের তরফে আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু তার বাদেও বহু কর্ম-সমর্থক নিজেদের উদ্যোগেই রওনা হয়েছিলেন কলকাতার পথে। দিনভর বৃষ্টি হয়নি। রোদের দাপটও তেমন ছিল না। ফলে, কলকাতমুখী জনতার ঢল সুনামি হয়ে উঠেছিল। পথেঘাট, রেলযাত্রায় কর্মীদের মুখে ছিল গান। যা বাধ্যতার থেকে বেশি করে আবেগের দাপটকেই প্রকাশ করেছে। কর্মসূচি ছিল কলকাতায়, কিন্তু সকালের একটা সময় পর্যন্ত সেই কর্মসূচিকে ঘিরে সরগরম ছিল হুগলি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ