Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিগন্যাল বিভ্রাটে ট্রেন দাঁড়াল লাইনের মাঝে, যাত্রীদের বিপজ্জনক ওঠানামা

সিগন্যাল বিভ্রাটে ট্রেন দাঁড়াল লাইনের মাঝে, যাত্রীদের বিপজ্জনক ওঠানামা
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নির্দিষ্ট কোনও প্ল্যাটফর্মে নয়, রেল কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনকভাবে ট্রেনের স্টপেজ দিচ্ছে রেললাইনের মাঝ বরাবর। আর সেই রেললাইনের মাঝ থেকে যাত্রীরা ওঠানামা করছেন। ঝাঁ চকচকে রেল স্টেশনে পাথর বিছানো, তবুও রেল লাইনের উপর মানুষকে জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বুধবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের সাঁতুড়ি থানার মধুকুণ্ডা রেলস্টেশনে এমন চিত্র ধরা পড়েছে। ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় শোরগোল পড়েছে। ইতিমধ্যে রেলের সেই ভিডিওটি সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছে। যাত্রী সহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রেলের উদাসীনতার জন্য ওইদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে রেল কর্তৃপক্ষ এতটা উদাসীন হয়, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রেলের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ।

Advertisement

আদ্রা ডিভিশনের রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বিষয়টি সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। ওইদিন একটি লাইনের সিগন্যালের সমস্যা থাকার জন্য এমনটা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, ওইদিন হঠাৎ একটি লাইনে সিগন্যাল বিকল হয়ে পড়ে। যার জন্য প্লাটফর্মে থাকা মালগাড়িটি আটকে পড়ে। ফলে আসানসোলগামী লোকাল ট্রেনগুলি চলাচলে সমস্যা হয়েছিল। অন্য প্ল্যাটফর্মে ট্রেনটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রেল লাইন না থাকায় সমস্যা হয়। তাই যাত্রীদের কথা ভেবে আসানসোলগামী দু’টি লোকাল ট্রেনকে প্ল্যাটফর্মে না দিয়ে রেল লাইনের মাঝে স্টপেজ দেওয়া হয়। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা ভেবে আগেই বিষয়টি নিয়ে মাইকিংয়ে অ্যানাউন্স করে দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীরা যাতে সহজে ওঠানামা করতে পারে তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিডের পর থেকে আদ্রা ডিভিশনের রেল পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। ডিভিশন জুড়ে লোকাল ট্রেন পরিষেবা কমেছে। বর্তমানে মাল পরিবহণ ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কয়টি লোকাল ট্রেন পরিষেবা প্রদান করে, তার বেশির ভাগ সময়মতো চলাচল করে না। আবার বেশির‌‌ভাগ ট্রেনকে সাপ্তাহিক ব্লকের নামে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কোভিডের পর থেকে ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে। পরিষেবা কমেছে। বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। সেগুলি চালু করার কোনও চিন্তাভাবনা নেই।
সাঁতুড়ি এলাকার শিক্ষক জিতেন মণ্ডল বলেন, ওইদিন বোকারো-বর্ধমান লোকাল ট্রেনটিতে মুরাডি স্টেশন চেপেছিলাম। হঠাৎ মধুকুণ্ডা ঢোকার সময় দেখি ট্রেনটিকে প্ল্যাটফর্মে স্টপেজ না দিয়ে রেললাইনের মাঝে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার ভাবুন মহিলা, বাচ্চা, অসুস্থ ব্যক্তিরা কীভাবে ট্রেনে ওঠানামা করবে। রেলের এই উদাসীনতা কেন?
রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামাণিক বলেন, এটাই মোদির নতুন ভারত। এতদিন জানতাম ট্রেন প্ল্যাটফর্মে স্টপেজ দেয়। এখন দেখছি রেল লাইনের মাঝেও স্টপেজ দেওয়া সম্ভব।
বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা করা হবে সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাব। রেলের তরফ থেকে যে সাফাই খাড়া করা হয়েছে, সেটার কোনও যুক্তি নেই। এখন দেখে মনে হচ্ছে, আদ্রা ডিভিশনে যোগ্য আধিকারিকদের অভাব রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ