Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরে শুরু হল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, যানজট কমার আশা

করিমপুরে শুরু হল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, যানজট কমার আশা
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: যানজট নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে ট্র্যাফিক সিগন্যাল চালু হল করিমপুরে। ট্রাফিক সিগন্যালের উদ্বোধন করেন কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার সুপার অমরনাথ কে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়, অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ, তেহট্টের এসডিপিও শুভতোষ সরকার, করিমপুরে আইসি সিকান্দার আলম প্রমুখরা। এবার যানজট সমস্যা মিটবে বলে ধারণা পুলিস ও এলাকাবাসীর। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষামূলক ভাবে এখন করিমপুর নতুন বাস স্ট্যান্ড থেকে রাজ্য সড়কে ওঠার সংযোগস্থলে এই সিগন্যাল চালু করা হল। প্রাথমিক ভাবে ১২টি জায়গায় সিগন্যাল বসানো হয়েছে। আগামী দিনে শহরের অন্যান্য জায়গায়ও বসানো হবে। জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে করিমপুরে কোনও স্থায়ী বাস স্ট্যান্ড ছিল না। রাস্তার উপরেই বাস দাঁড়াত এবং যাত্রীরা ওঠানামা করত। পরে করিমপুরে নতুন বাস স্ট্যান্ড হলেও শহরের একমাত্র রাস্তায় যানজট লেগেই থাকত। এই যানজট সামলাতে মাস ছয়েক আগে করিমপুরের ট্রাফিক ব্যবস্থা শুরু হয়। তখন থেকে ১ জন এসআই, ৪ জন এএসআই, ৩ জন কনস্টেবল, ২ জন লেডি কনস্টেবল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়াও করিমপুর থানা এলাকায় ২০ জন, থানারপাড়ায় ২০ জন, মুরুটিয়ায় ১৪ ও হোগলবেড়িয়ায় ১০ জন করে সিভিক ভলান্টিয়ারকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার সিগন্যালও চালু হল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, করিমপুরের নাটনা মোড় থেকে নতিডাঙা মোড় পর্যন্ত একমাত্র রাস্তা— যেখানে সর্বদা যানজট এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনাও লেগেই থাকে। গত দুই বছরে বাস স্ট্যান্ডের মুখে বাসের ধাক্কায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হওয়ার পর থেকে অবশ্য দুর্ঘটনা কমেছে। করিমপুরের বাসিন্দা তপন সরকার বলেন, যত সময় যাচ্ছে জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি যানবাহনের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। অথচ এখানে বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। ফলে একমাত্র রাস্তায় মানুষ এবং যানবাহনের চাপ অনেক বেশি হয়েছে। একটি মাত্র রাস্তা দিয়েই করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগর, বহরমপুর, কোলকাতা, বর্ধমান কিংবা শিলিগুড়ি রুটে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশো বাস যাতায়াত করে। এছাড়াও রয়েছে ছোটবড় ট্রাক, গাড়ি। বর্তমানে এলাকায় প্রায় এক হাজার টোটো আর অটো চলাচল করে। টোটো চালকদের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা চলে। চলতে চলতে টোটোগুলি আচমকা দাঁড়িয়ে যায়। পিছনে কী আছে দেখে না। ফলে আখছার দুর্ঘটনা ঘটে। এখন সিগন্যাল চালু হলেও রাস্তা আরও চওড়া করা বা বাইপাস তৈরির পরিকল্পনা করা উচিত। পুলিস সুপার জানান, সিগন্যাল চালু করা হল। সাধারণ মানুষ ও গাড়ির চালকদের আরও সচেতন হতে হবে। কোনও রকম যানজট বা দুর্ঘটনা যাতে না হয় পুলিস ও ট্রাফিক পুলিস সেদিকে নজর রাখবে।  

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ