নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা! এমনিতেই গত এক বছর ধরে কবি সুভাষ বা নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন বন্ধ। ফলে নয়াবাদ, পঞ্চসায়র, গড়িয়া, নিউ গড়িয়া এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে দু’বার অটো বদল করে শহিদ ক্ষুদিরাম বা বৃজি স্টেশনে পৌঁছে মেট্রো ধরতে হচ্ছিল।
এবার সেই সুখও সইল না বাসিন্দাদের কপালে! কারণ, গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানের নিকাশির কাজের জন্য ব্যস্ত গড়িয়া স্টেশন রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে আদিগঙ্গার পাশের সরু রাস্তা দিয়ে ঢালাই ব্রিজের আগেই থমকে যাচ্ছে গড়িয়া স্টেশন-শীতলাতলা রুটের অটো। মেট্রো যাত্রীদের প্রাণ হাতে করে প্রথমে ব্যস্ত ঢালাই ব্রিজ পার হতে হচ্ছে। তারপর অন্তত ৫ মিনিট হেঁটে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে পৌঁছাতে হচ্ছে। অফিস টাইমে ভোগান্তির একশেষ হতে হচ্ছে মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে ঢালাই ব্রিজ সিগন্যালে পথচারীদের পারাপার অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।
মেট্রো যাত্রীদের পাশাপাশি প্রবল সমস্যায় পড়ছে এই রুটের স্কুলের পড়ুয়ারা। কারণ, গড়িয়া স্টেশন-শীতলাতলা রুটকে দু’ভাগে ভাগ করে অটো চলছে। প্রথম ভাগে গড়িয়া স্টেশন থেকে ঢালাই ব্রিজের মুখ পর্যন্ত। দ্বিতীয় ভাগে ক্ষুদিরাম স্টেশনের সামনে থেকে শীতলাতলা পর্যন্ত। ফলে হরিমতি স্কুলের একজন ছাত্রীকে গড়িয়া স্টেশন থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় দু’বার অটো বদল করতে হচ্ছে। এমনকি, এই কাটা রুটের জন্য ভাড়া দিতে হচ্ছে ১০ টাকার জায়গায় ২০ টাকা।
গড়িয়া স্টেশন-শীতলাতলা রুটের অটো চালকদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগেও এই রাস্তায় নিকাশির কাজ হয়েছে। তখন রাস্তার একপাশ দিয়ে অটো চলেছে। এখন কেন সমস্যা হচ্ছে, তারা বুঝতে পারছে না। মেট্রোর নিত্যযাত্রীদের দাবি, দিনের বদলে রাতে নিকাশির কাজ হোক। তাহলে রাস্তা বন্ধ করতে হয় না। উল্লেখ্য, কবি সুভাষ স্টেশন বিপর্যয়ের পর মেট্রো যাত্রীদের জন্য নিউ গাড়িয়া থেকে স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছিল সরকার। অনেকদিন ধরেই তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে মেট্রো ধরতে গিয়ে ভরা বর্ষায় নাজেহাল এই রুটের নিত্যযাত্রীরা।