নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত চার বছরে পূর্ব মেদিনীপুরে ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনায় বকেয়া কেসের পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ। বেপরোয়া ড্রাইভিং, সিগন্যাল ভাঙা, সিট বেল্ট না পরা, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সহ নানা অভিযোগে পুলিস ফাইন ধার্য করেছে। কখনও হাতে নোটিস তুলে দিয়েছে। আবার কখনও ডাকযোগে বাড়িতে নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু, এক লক্ষ মানুষ ফাইনের টাকা মেটায়নি। ২০২২ সাল থেকে এরকম প্রায় এক লক্ষ মামলা বকেয়া পড়ে রয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে জাতীয় লোক আদালত বসবে। পূর্ব মেদিনীপুর ওই লোক আদালতে ২০২২ সালে এরকম ১৬ হাজার কেস নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়েছে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ।
২০২২ সালের মার্চ থেকে ওই বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার বকেয়া কেস পড়ে রয়েছে। তিন বছর আগের সেইসব বকেয়া মামলা নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগী হয়েছেন ডিএলএসএ কর্তৃপক্ষ। তাদের সকলের বাড়িতে নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। কার বিরুদ্ধে কতগুলি কেস এবং তাতে ফাইনের পরিমাণ কত, তারও উল্লেখ করা হয়েছে। তমলুকে পুরনো সিজেএম কোর্টের কাছে এনিয়ে কাউন্টার করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন তমলুক মহকুমার অন্তর্গত এক একটি থানা থেকে প্রতিদিন নোটিস পাওয়া মানুষজন আসছেন। তাঁদের আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় লোক আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন ডিএলএসএ কর্তৃপক্ষ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০২২ সাল থেকে বকেয়া ট্রাফিক মামলার পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ। ২০২২ সালে ১৬ হাজার কেস আছে। তারপর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কেসের পরিমাণ আরও প্রায় ৭৫ হাজার। বিপুল সংখ্যক বকেয়া কেস ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত ১৩ তারিখ আমরা ২০২২ সালের ট্রাফিক ফাইনের কেস বেঞ্চে তুলব।
জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ বকেয়া ট্রাফিক মামলা কেস জাতীয় লোক আদালতে পেশ করেছিল। কিন্তু, হাজার হাজার লোক চলে আসায় রাত ১২টার পরও কোর্টে দীর্ঘ লাইন ছিল। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারপর আর ট্রাফিক আইন ভাঙার কেস জাতীয় লোক আদালতে তোলা হয়নি। প্রায় তিন বছর পর আবারও ট্রাফিক ফাইনের কেস লোক আদালতে তোলা হবে। ২০২২ সাল থেকে মোটর ভেহিক্যালস(অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট চালু হয়েছে। নতুন আইনে ট্রাফিক জরিমানার পরিমাণ আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতি বছর জেলায় ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনায় দেড় থেকে দু’কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে, অনেকে ফাইনের টাকা দিতে পারেন না। জাতীয় লোক আদালতে ছোটখাটো মামলা আপসে মিটিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জরিমানার অর্ধেক কিংবা তারও কম টাকা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে। তাই ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের নজর লোক আদালতের দিকে।