সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আইনভঙ্গকারীদের সিধে করতে এবার চকোলেট বা গোলাপ-নীতিতে ইতি। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এবার স্বমহিমায় অবতীর্ণ হল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো থেকে শুরু করে সওয়ারির সংখ্যা দুইয়ের অধিক হওয়া কিংবা গাড়ি চালানোর সময় কানে মোবাইল ফোন গুঁজে রাখা— অপরাধ দেখলেই মিলছে কড়া ‘দাওয়াই’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সূতির অরঙ্গাবাদ নেতাজি মোড়ে ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে কান ধরে ওঠবস করাতে দেখা গেল। নিয়মভঙ্গকারীদের অনেককেই বাইক থেকে নামিয়ে হাঁটিয়ে গন্তব্যে পাঠানো হয় আবার কোথাও নিয়ম ভাঙলে তাড়া করল লাঠি। পুলিশের এই কড়া মেজাজ ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে এলাকায়। নেটপাড়াতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সূতি থানার পুলিশ জানিয়েছে, কাউকে হেনস্তা করা লক্ষ্য নয়। কিছু অসচেতন ও অবুঝ মানুষকে নিয়মের পাঠ শেখাতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূতির অরঙ্গাবাদ নেতাজি মোড় ব্যস্ততম এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এই চত্বরে। চলে অজস্র যানবাহন। ফলে যানজট এখানে নিত্যদিনের চেনা ছবি। ট্রাফিক ব্যবস্থা মসৃণ রাখতে ও আইনভঙ্গকারীদের দমাতে সম্প্রতি ওই এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। ওইদিন সকাল থেকেই শুরু হয় কড়া চেকিং। আর তাতেই ধরা পড়ে একের পর এক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের খণ্ডচিত্র। এতদিন ট্রাফিক আইন নিয়ে সচেতন করতে পুলিশকে নিয়মভঙ্গকারীদের ফুল, চকোলেট কিংবা হেলমেট উপহার দিয়ে সচেতনতার পাঠ পড়াতে দেখা যেত। কিন্তু এদিন ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উলটো। বেপরোয়া গতির বাইক দেখলেই তা আটকে দেওয়া হয়। এরপরই আইনভঙ্গকারীদের রাস্তার মাঝেই কান ধরে ওঠবস করিয়ে শাস্তি দেয় বাহিনী। আইন না মানার অপরাধে কাউকে আবার লাঠি উঁচিয়ে কড়া ধমকও দেওয়া হয়। বাহিনীর এই মারমুখী রূপ দেখে থমকে যান অনেকেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, আইন ভাঙলে নিয়ম অনুযায়ী ফাইন বা জরিমানা করা হোক। কিন্তু এভাবে মাঝ রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করানো বা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করা হেনস্তা। অন্য পক্ষ অবশ্য পুলিশের এই অতি-সক্রিয় ভূমিকাকে সাধুবাদই জানিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতেই হয়। দুর্ঘটনা রুখতে এই কড়া দাওয়াইয়েরই প্রয়োজন ছিল। যদিও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা বা লাঠিচার্জের অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। তবে পুলিশের এই রণং দেহি মেজাজের পর অরঙ্গাবাদ নেতাজি মোড়ে ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা যে অনেকটাই কমবে, সাধারণ মানুষও তা মানছেন।