Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিজেদের দ্বন্দ্বে পূর্ব বর্ধমানে অস্বস্তিতে বিজেপি, বিধায়কের অফিসে ভাঙচুর

পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে বিধায়কের অফিসে ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ। কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত পড়ুন।

নিজেদের দ্বন্দ্বে পূর্ব বর্ধমানে অস্বস্তিতে বিজেপি, বিধায়কের অফিসে ভাঙচুর
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল থামার লক্ষ্মণ নেই। এতদিন ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যায়। মেমারিতে বিধায়কের অফিসে দলের এক গোষ্ঠী ভাঙচুর চালায়। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে হাতাহাতি চলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।  বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারিতে দলের তিনটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারমধ্যে দু’টি গোষ্ঠী আলাদাভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনের ডাক দিয়েছে। তা নিয়েই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। দু’পক্ষই একে অপরকে তোপ দাগতে থাকে। রাতের দিকে দু’পক্ষ বিধায়কের অফিসের সামনে জমায়েত হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে যায়। বিজেপি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বলেন, আদর্শ নিয়ে দল করে এসেছি। যখন দলের ঝান্ডা ধরার জন্য কাউকে পাওয়া যেত না তখন থেকে সংগঠন বিস্তারের কাজ করছি। এখন যদি কেউ দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে মেনে নেব না। দলে থেকে কাউকে তোলাবাজি করতে দেব না।

Advertisement

দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কালনা, জামালপুর, বর্ধমান সহ বিভিন্ন এলাকাতেই দলের অন্দরমহলে টানাপোড়েন চলছে। যাঁরা এলাকায় থেকে দুর্দিনে সংগঠন বিস্তারের কাজ করেছেন তাঁদের অনেকেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন। তবে তাঁরা আশাবাদী। এক আদি বিজেপি নেতা বলেন, অনেক কষ্টে দল ক্ষমতায় এসেছে। তাই এখন যারা ভাবছে সর্বেসর্বা তারা ভুল করছে। নেতৃত্ব এখন সবার উপর রাখছে। ঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনেকে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ আসছে। তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য যা যা করার দরকার সবটাই হবে। তারজন্য হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। কিন্তু এই অবস্থা বেশিদিন চলবে না। বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভোটের আগে থেকেই দলের গোষ্ঠীকোন্দল বারবার সামনে এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করেই অনেক নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। যদিও ভোটের ময়দানে তাঁদের খুব বেশি দেখা যায়নি। সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাঁদের বড় ভূমিকা ছিল না। অথচ এখন তাঁরা পুরনোদের সরিয়ে সংগঠনের রাশ ধরতে চাইছে। পুরনোদের পক্ষে সেটা মানা সম্ভব হচ্ছে না। তাতেই দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বিজেপির আর এক নেতা বলেন, অনেক জেলাতেই সংগঠন ঢেলে সাজা হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। বুথস্তর থেকে সংগঠন ঢেলে সাজা হবে। যাঁরা ভোটের সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। আদিদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ