Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বুনোট’-এ আকার নিচ্ছে ঐতিহ্যের সিঁড়ি পুজোয় আবেগের ‘অনন্ত’ প্রকাশ চুঁচুড়ায়

বাঙালির দুর্গোৎসব নিজেই এক অভিনব মিলনমেলা। তাই পুজোর আয়োজনেও থাকে মিলনেরই মূর্ত-বিমূর্ত সমাবেশ।

‘বুনোট’-এ আকার নিচ্ছে ঐতিহ্যের সিঁড়ি পুজোয় আবেগের ‘অনন্ত’ প্রকাশ চুঁচুড়ায়
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঙালির দুর্গোৎসব নিজেই এক অভিনব মিলনমেলা। তাই পুজোর আয়োজনেও থাকে মিলনেরই মূর্ত-বিমূর্ত সমাবেশ। প্রতিমা হোক বা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা বা অন্দরসজ্জা, সবেতেই নানাভাবের এক অনবদ্য কোলাজ পুজো মরশুমে দেখা যায়। আর সবকিছুর মূলে থাকে ঐতিহ্য, অভিনবত্ব আর জৌলুসের ঠাস বুনোট। পুজো মরশুমে এবারও চুঁচুড়ার অলিগলিতে চলছে সেই প্রবহমান ধারার ধরাচূড়া নির্মাণ। ভোল বদলাচ্ছে পথঘাট। শরতের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে ‘কংক্রিটের জঙ্গল’। আর সেখানে মাথা তুলছে নানারকম থিম। কোথাও বুনোট, কোথাও বা অনন্ত, আবার কোথাও থিমের নাম ঐতিহ্যের সিঁড়ি। এককথায় বাঙালির বছরভরের অপেক্ষার স্বাদু সমাবেশ।

Advertisement

জীবন থেকে যাপন, বহমান মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে বুনোটের উপর। আবার বুনোট আছে হস্তশিল্পেও। একইসঙ্গে জীবনধারা আর জীবিকার ধারাকে এক কাঠামোতে বুনে চুঁচুড়ার ঘুঁটিয়াবাজার সর্বজনীন তার থিম নির্মাণ করছে। নাম দেওয়া হয়েছে, বুনোট। গামছা, মাদুর, শতরঞ্চি, দরমা বেড়া, চাটাই, কুলো এসব বুনে বুনে তৈরি করা হচ্ছে। থাকছে নিবিড়, নিটোল বন্ধন। ওইসব উপাদানকে বিমূর্ত ভঙ্গিমায় সাজিয়ে মণ্ডপ নির্মাণ তো বটেই মণ্ডপসজ্জাও করা হচ্ছে। আবার প্রতিমাতেও আছে বুনন। একচালার প্রতিমা সাবেক বাঙালিয়ানার পরিচিতি বহন করে। কিন্তু সেই একচালার প্রতিমাতে রাখা হচ্ছে বৌদ্ধ, ধ্যানগম্ভীর আদল। বোধের এক অনন্যভাষ্য নির্মাণের প্রয়াস করেছেন উদ্যোক্তারা। সঙ্গে মানানসই আলোতে সাজবে মণ্ডপ থেকে পথঘাট, বলছেন পুজো উদ্যোক্তা প্রদীপকুমার রায়।
চুঁচুড়ার ঠাকুরগলি সর্বজনীন এবার পঞ্চাশে পা দিয়েছে। তাদের থিম, অনন্ত। মানবজীবনে অনন্ত কেবল জীবন-মৃত্যুর চক্র, আর প্রকৃতি? সে নিজেই অনন্ত। এই দুই অনন্তকেই এক সূত্রে ধরে একটি ভাবময় মণ্ডপসজ্জায় মেতেছেন উদ্যোক্তারা। পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক নানা উপকরণকে মণ্ডপ নির্মাণ থেকে সজ্জায় ব্যবহার করে তাক লাগাতে নিরন্তর প্রয়াস চলছে। প্রতিমাতেও থাকছে মেলবন্ধন। সাবেকিয়ানার মজবুত ভাবের উপরে আধুনিকতার আলো ফেলে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। আর থাকছে নানা মডেল। ক্লাব কর্তা চন্দ্রকান্ত সাধুখাঁ বলেন, একটি বৌদ্ধিকভাবের উপরে দাঁড়িয়ে এবারের থিম নির্মাণ করা হয়েছে। জীবন থেকে দেবতা, অনন্তই শেষ কথা। সেটাই আমাদের এবারের আয়োজন।
ব্যান্ডেল চার্চ লাগোয়া বলাগড় সর্বজনীনের এবারের আয়োজন ঐতিহ্যের সিঁড়ি। বাঙালির সংস্কৃতিতে নিবিড়ভাবে মিশে আছে আলপনা, পটচিত্র। আবার আছে মধুবনির মতো শিল্প। এসবের সমাবেশেই মণ্ডপসজ্জা করে দর্শক মাতানোর আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। একটি ত্রিকোণ মণ্ডপ গড়ে লোকশিল্পীদের প্রাচীন শিল্পধারাকে মণ্ডপের শরীরে বুনে দেওয়ার কাজ চলছে। মণ্ডপকে ঘিরেই থাকছে আলোকসজ্জার একটি ভিন্ন প্রকাশ। বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে আছে কুলুঙ্গি। পুজোমণ্ডপের সঙ্গে তার যোগ চিরন্তন। গোটা মণ্ডপজুড়ে প্রায় ৩০০ কুলুঙ্গি নির্মাণ করা হচ্ছে। আর তাতেই থাকবে বিশেষ আলোর বাহার। পুজো উদ্যোক্তা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের প্রতিমা সাবেক ধারায় গড়া হয়েছে। তার সঙ্গে আধুনিকতা আর থিমের মেলবন্ধন করছি। যা চমকে দেবে।
চমক কতটা এল, তা সময় বলবে। কিন্তু আপাতত স্বপ্নরাজ্যের কাঠামো বোনার কাজ চলছে। পাল্টে যাচ্ছে শহরের স্বাভাবিক রূপ, আকার ধরে উঠছে অপরূপ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ