সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: পুরনো রীতিটাই হারিয়ে গিয়েছে। মঞ্চে কেউ প্রবীণ বা বরিষ্ঠ নেতা এলে কেউ চেয়ার ছাড়ে না। চেয়ারে বসে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে থাকে।
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: পুরনো রীতিটাই হারিয়ে গিয়েছে। মঞ্চে কেউ প্রবীণ বা বরিষ্ঠ নেতা এলে কেউ চেয়ার ছাড়ে না। চেয়ারে বসে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে থাকে।
বৃহস্পতিবার রাতে পুরাতন মালদহ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনি হয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমনই মন্তব্য করেন ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্যতম এই নেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, দুর্গাপুজোর পর বিজয়া কেন হয়? এর ঐতিহ্য হল বড়দের শ্রদ্ধা করা। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা।
নারকেলের নাড়ু খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। দলের সেই সিস্টেম হারিয়ে গিয়েছে। লিডার চেয়ারে বসে থাকে। তাঁর থেকে প্রবীণ কেউ এলে চেয়ার ছাড়ে না। পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকে। অনেকে এত ক্ষমতাবান হয়ে গিয়েছে যে কর্মীদের কর্মী মনে করে না। তাঁর এই মন্তব্যে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আলোড়ন পড়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তর মালদহ লোকসভা আসনে টানা দু’বার বিজেপি জয়লাভ করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ আসনে তৃণমূল পরাজিত হয়েছে। ওই বিধানসভার মধ্যে পুরাতন মালদহ গ্রামীণ এবং শহর এলাকা পড়ে।
বৃহস্পতিবার সাহাপুর গ্রামীণ এলাকায় ওই সম্মিলনি হয়।
হাসপাতালে কেউ ভর্তি, রক্তের প্রয়োজন, স্কুলের ভর্তি সংক্রান্ত সহ যে কোনও সমস্যায় তৃণমূল কর্মীরা সাহায্য করেন। এছাড়া রাত বিরেতে কেউ বিপদে পড়লে তৃণমূলের কর্মীরাই প্রথম ছুটে যান। তা সত্ত্বেও বারবার কেন এই বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল পরাজিত হচ্ছে? সভামঞ্চে অনেক নেতা এনিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। মঞ্চে কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, আমাদের মধ্যে এক শ্রেণির লিডার নিজের স্বার্থ দেখেন। কীভাবে কাউকে ডাউন করব, মাটিতে মিশিয়ে দেব, এগুলি করেন। হাত জোর করে বলছি, এমন স্বভাব পরিবর্তন করুন। ক্ষমতা সবসময় থাকে না।
পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, দল যদি না থাকে তাহলে স্টাইল করে লাভ কি? কর্মীদের খোঁজ নিতে হবে। তাঁর কী সমস্যা রয়েছে, পাশে থাকতে হবে। অতীতে যা ভুল হয়েছে, নতুন করে চিন্তাভাবনা করে এগিয়ে চলা ভালো।