সংবাদদাতা, কাটোয়া: লক্ষ লক্ষ টাকা বাজেটের থিম পুজোর ভিড়ে আজও কাটোয়ার কার্তিক লড়াইয়ের মূল আকর্ষণ শতাব্দী প্রাচীন ‘থাকা’। রামায়ণ, মহাভারত কিংবা পৌরাণিক কাহিনিকে ‘থাকা’র মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহন করা এই থাকা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ কাটোয়া শহরে ভিড় জমায়। তাই থাকার ঐতিহ্যকে শহরের পুজো উদ্যোক্তারা আজও টিকিয়ে রেখেছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার প্রবেশপথ ছিল কাটোয়া। প্রাচীনকালে এই জনপদের নাম ছিল কণ্টকনগর। সেযুগে এই শহর নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই শহরে ‘বাবু’দের বাস ছিল। বাবু বলতে সেকালের সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ীদের বোঝানো হত। ভাগীরথী তীরবর্তী এলাকায় বাবুদের যাতায়াত ছিল। তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্যই নদীতীরে শুরু হয় বারবণিতাদের বসবাস। সেই বারবণিতারাই সন্তান কামনায় কার্তিকপুজো শুরু করেন। কাটোয়ার গঙ্গাপাড়ের প্রাচীন চুনারি পাড়ার (এখন হরিসভা পাড়া) বারবণিতাদের হাত ধরেই কাটোয়ায় কার্তিকপুজোর চল শুরু হয়। সেই পুজোয় খরচ দিতেন বাবুরা। থাকা নিয়ে শোভাযাত্রা করার সময় বাবুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হত। কার থাকা আগে যাবে, তা নিয়ে বাবুদের প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ কাটোয়ায় ভিড় জমাত। বেহারারা পান চিবোতে চিবোতে সেই থাকা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যেতেন। সেই থেকেই বাংলার লোক উৎসব ‘কার্তিক লড়াই’ নামে পরিচিতি পায়। আজ সেই বারবণিতারা না থাকলেও কার্তিক লড়াই, থাকা এসব থেকে গিয়েছে। তবে, এখন থাকা আর কেউ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যায় না। লোহার গাড়িতে করে থাকা নিয়ে যাওয়া হয়। চন্দননগরের আলোকসজ্জায় থাকাগুলি আরও অনবদ্য হয়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, এখন কাটোয়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে দু’শোর কাছাকাছি কার্তিকপুজো হয়। রাজা কার্তিক, জামাই কার্তিক, ন্যাংটা কার্তিক, সাহেব কার্তিক সহ বিভিন্ন রকমের ঠাকুরের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে থিমের পুজোও। কিন্তু কাটোয়ার কার্তিক লড়াইয়ের প্রাচীন ঐতিহ্য এখনও বয়ে চলেছে ‘থাকা’। নিজস্ব চিত্র