অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: আউশগ্রামের দিগনগরে আজও উল্টোরথের আগের দিন দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে প্রভু জগন্নাথদেবের মালাবদল হয়। প্রাচীন এই প্রথা এখনও মেনে চলা হয়। বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দের প্রতিষ্ঠা করা প্রাচীন মন্দিরে এবারও জাঁকজমকের সঙ্গেই রথের রশিতে টান দেবেন বাসিন্দারা।
আউশগ্রামের দিগনগরে বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ প্রভু জগন্নাথ দেবের মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ একসময় পুরীর জগন্নাথদেব দর্শন করে এসে বাড়িতে জগন্নাথদেবের স্বপ্নাদেশ পান। তারপরেই তিনি আউশগ্রামের দিগনগরে জগন্নাথদেবের মন্দির তৈরি করেন। প্রথমে সেবাইতরাই মন্দিরে প্রভুর সেবা করতেন। পরে ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি হয়। দিগনগর জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টি নামে পরিচিত। সেই থেকেই জগন্নাথ দেবের নিত্যসেবা থেকে সবকিছুই ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালনা করে।
অনেকে মনে করেন, পুরীতে প্রভু জগন্নাথদেবের মন্দিরে তীর্থ করার পর আউশগ্রামের দিগনগরে জগন্নাথদেবকে দর্শন না করলে নাকি তীর্থযাত্রা সম্পন্ন হয় না। পুরীর জগন্নাথদেবের রীতিনীতি সবই এখানে মেনে চলা হয়। দিগনগরের জগন্নাথদেবের মন্দির কমিটির যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ সমর সিংহ বলেন, রথযাত্রার দিন দু’বার ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর প্রথমে মূল মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে চড়িয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাটতলার কাছ থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে কোলে চড়িয়ে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্টোরথের আগের দিন হয় লক্ষ্মীযাত্রা। সেদিন দেবী লক্ষ্মীকে প্রভু জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি মানভাঙাতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে জগন্নাথ দেবের সঙ্গে মালাবদল করা হয় লক্ষ্মীদেবীর। তার পরেরদিন অর্থাৎ উল্টোরথের দিন প্রভু জগন্নাথদেবকে আবার মূল মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। এটাই দিগনগরের জগন্নাথ মন্দিরের মূল রীতি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে আসেন। তাই জগন্নাথদেবের মন্দির ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়তে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। রথযাত্রা উৎসবে শামিল হন হাজার হাজার মানুষ। শয়ে শয়ে মানুষ রথের দড়িতে টান দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। পুরীর মতো এখানেও জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার নিমকাঠের মূর্তি রয়েছে। স্নানযাত্রার পর তা শোওয়ানো থাকে জলের তলায়। ভাস্কর এসে অঙ্গরাগ করেন। রথযাত্রার জন্য সেজে উঠেন জগন্নাথ। সারাদিন পূজার্চনার পর বিকেলে টান পড়ে রথের রশিতে। এবার ট্রাস্টি বোর্ড বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিক দুর্বলতা থাকা মানুষজনদের জন্য আলাদা ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে।



