নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নেশাগ্রস্ত যুবকরা টাকা জোগাড় করতে হাট বাজার থেকে সাইকেল চুরি করে দোকানে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করে দিত। ময়না থানার বলাইপণ্ডা বাজারে দশক সামন্ত পুরনো লোহালক্কড় ব্যবসার আড়ালে ওই সাইকেলগুলির পার্টস বদল করে ১৪০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি করত। দিব্যি এই ব্যবসা চলছিল। গত ১৯ জুন বলাইপণ্ডা পরিবহণ কর্মী ইউনিয়ন অফিস থেকে একটি সাইকেল চুরি যায়। ওই সাইকেলটিও দশকের দোকানে বিক্রি করা হয়েছিল। সাইকের চুরির ঘটনার অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিসি তদন্তে এই কারবারের পর্দা ফাঁস হয়। ময়না থানার পুলিস দশককে গ্রেপ্তার করেছে। সেইসঙ্গে তার দোকান থেকে পুরনো ১০টি সাইকেলও উদ্ধার হয়েছে বলে ওই থানার ওসি সোমনাথ শীট জানিয়েছেন।
পিংলা থানার তিলদাগঞ্জের বিজিত চক্রবর্তী বলাইপণ্ডা-মেচেদা রুটের বাসের কনডাক্টর। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলাইপণ্ডা বাজারে পরিবহণ কর্মীদের অফিসে সাইকেল রাখেন। আবার রাত ৯টায় সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন। গত ১৯ জুনও তিনি ইউনিয়ন অফিসে সাইকেল রেখে কাজে যান। রাতে বাস থেকে নেমে দেখেন, তাঁর সাইকেলটি নেই। দু’দিন খোঁজাখুঁজির পর তিনি জানতে পারেন দশকের দোকানে তাঁর সাইকেলটি বিক্রি করা হয়েছে। এরপর ২১ জুন ময়না থানায় দশকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
ময়না থানার পুলিস তদন্তে নেমে দশকের দোকান থেকেই বিজিতবাবুর চুরি যাওয়া সাইকেল উদ্ধার করে। তারসঙ্গে আরও ১০টি চোরাই সাইকেল পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, বলাইপণ্ডা ও আশপাশ এলাকায় মদ ও মাদকাসক্ত যুবকরা চোখের নিষেমের মধ্যে সাইকেল চুরি করে নেয়। এরপর ওই চোরাই সাইকেল ৫০০-৬০০ টাকায় দশকের দোকানে বিক্রি করে দিত। ধৃত দশক সাইকেলের পার্টস বদলে ১৪০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি করত।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এখন ১৬-১৮ বছর বয়সি যুবকরাও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। টাকা জোগাড় করতে হাটে বাজারে সাইকেল চুরি করে নামমাত্র টাকায় বিক্রি করে দেয়। সেই সাইকেল কিনে দশক ভোল বদলে বাজারে বিক্রি করত।