নয়াদিল্লি: কয়েকমাস আগেই অফিসে যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টার ঘটনায় মুখ পুড়েছিল টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের। এবারে বিদেশেও চাপের মুখে টিসিএস। জানা যাচ্ছে, ব্যবসায়িক গোপন তথ্য (ট্রেড সিক্রেট) নিয়ে ডিএক্সসি টেকনোলজিসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের আইনি লড়াই চলছে। সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলা খতিয়ে দেখার আরজি খারিজ করে দিয়েছে। সেই কারণে এবার এই মামলার ব্যয় এবং সুদ বাবদ ৭ কোটি ডলার আলাদা রাখার কথা জানাল টিসিএস। ফলে আগের হিসাব মিলিয়ে টিসিএসের মোট খরচ প্রায় ২২০ মিলিয়ন বা ২২ কোটি ডলার ছুঁয়ে ফেলল। ভারতীয় মুদ্রায় তা প্রায় ১৮৬০ কোটি টাকা।
সূত্রের খবর, এই বিবাদের সূত্রপাত আমেরিকায় লাইফ ইনস্যুরেন্স সফটওয়্যার সংক্রান্ত ব্যবসা ঘিরে। ১৯৯০ সাল নাগাদ ডিএক্সসি টেকনোলজিসের পূর্বতন সংস্থা কম্পিউটার সায়েন্সেস কর্পোরেশন (সিএসসি) জীবন বিমা সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের লাইসেন্স দিয়েছিল ট্রান্সআমেরিকা নামে একটি কোম্পানিকে। আদালত সূত্রে খবর, বেশ কয়েক বছর পর, ট্রান্সআমেরিকা থেকে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি কর্মী নিয়োগ করেছিল টিসিএস। অভিযোগ উঠেছে যে, একটি পালটা ইনস্যুরেন্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য তারা অবৈধভাবে ওই কর্মীদের সিএসসি’র সফটওয়্যারে অ্যাক্সেস এবং ব্যবহারিক জ্ঞান কাজে লাগায়। পরবর্তীকালে ডিএক্সসি টেকনোলজিসের সঙ্গে যুক্ত হয় সিএসসি। ২০১৯ সালে ডালাসের একটি আদালতে তারা মামলা করে টিসিএসের বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার অভিযোগ ছিল, সিএসসি’র ট্রেড সিক্রেট অপব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য থেকে লাভবান হয়েছে টিসিএস। যদিও ভারতীয় আইটি সংস্থাটির তরফে জানানো হয়, বিষয়টি মোটেও গোপন নয় এবং তারা আইনিভাবেই এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেছে।
২০২৩ সালে ট্রেড সিক্রেট অপব্যবহারে টিসিএসকে অভিযুক্ত করে মামলার জুরি। ২১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের সুপারিশও করা হয়। পরের বছর, মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ব্র্যান্টলি স্টার সেই ক্ষতিপূরণ কমিয়ে ১৬ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার করেন। টিসিএস এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু ২০২৫ সালে ফিফথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় টিসিএস। এবার সেখানেও ধাক্কা খেতে হল ভারতের এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে।