নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবার ট্রাক্টর প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল জামুড়িয়া থানার পুলিস। ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে সাতটি ট্রাক্টর। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুমিত কুমার। তার বাড়ি জামুড়িয়ার শ্রীপুর এলাকায়। এদিন ডেপুটি পুলিস কমিশনার ধ্রুব দাস জামুড়িয়া থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
জামুড়িয়া থানা এলাকায় কিছুদিন ধরেই ব্যবসায়ীদের ট্রাক্টর গায়েব হয়ে যাচ্ছিল। জানা যায়, ধৃত সুমিত ট্রাক্টর মালিকদের মোটা টাকা ভাড়া দেওয়ার টোপ দিত। প্রতি মাসে ভালো টাকা ভাড়া পাওয়ার আশায় মালিকরা তাকে ট্রাক্টর ভাড়া দিতেন। মাসখানেক পর থেকেই সেই ট্রাক্টর গায়েব হয়ে যেত। কখনও মালিককে জানানো হতো, ট্রাক্টরটি অন্য রাজ্যে ভাড়ায় খাটছে। কখনও আবার বলা হতো, ট্রাক্টরটি চুরি হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি এক ট্রাক্টর মালিক এবিষয়ে জামুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ততদিনে অভিযুক্ত গা ঢাকা দেয়। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই টোপ দিয়ে ট্রাক্টর নিয়েছে অভিযুক্ত। একাধিক জায়গায় তল্লাশির পর সুমিতকে গ্রেপ্তার করে জামুড়িয়া থানার পুলিস। তাকে জেরা করে এখনও পর্যন্ত সাতটি ট্রাক্টর উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুরনো ট্রাক্টরগুলি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছিল সে। নকল নথি বানিয়ে নিজেকেই মালিক হিসেবে দেখিয়ে সুমিত ট্রাক্টরগুলি বিক্রি করে। নকল নথি বানানোর ঘটনা থেকে পুলিসের সন্দেহ, এর পিছনে কোনও বড় চক্র থাকতে পারে।
পুলিস কমিশনার বলেন, শিল্পাঞ্চলের নানা প্রান্তের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও ট্রাক্টর বিক্রি করে সুমিত। আমরা এখনও পর্যন্ত সাতটি ট্রাক্টর উদ্ধার করতে পেরেছি। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।