Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেঙ্গল এসটিএফের অভিযান, সন্দেশখালিতে শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে মিলল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

একসময়ে সন্দেশখালির স্বঘোষিত ‘বাঘ’। সেই বাঘ শেখ শাহজাহান এখন ‘বিড়াল’ হয়ে সংশোধনাগারে। তবে ঘনিষ্ঠ শাগরেদরা তার ক্রাইম সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, এমন খবর পান বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকরা।

বেঙ্গল এসটিএফের অভিযান, সন্দেশখালিতে শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে মিলল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ
  • ৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একসময়ে সন্দেশখালির স্বঘোষিত ‘বাঘ’। সেই বাঘ শেখ শাহজাহান এখন ‘বিড়াল’ হয়ে সংশোধনাগারে। তবে ঘনিষ্ঠ শাগরেদরা তার ক্রাইম সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, এমন খবর পান বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকরা। শনিবার অভিযান চালিয়ে শাহজাহানের এক আত্মীয় তথা তৃণমূল নেতা ও অন্য কর্মীদের বাড়ি এবং ভেড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এসটিএফ। চারটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মিলেছে ১৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছ’জনকে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশ থেকে জলপথে সন্দেশখালিতে নিয়ে এসেছিল শাহজাহান ও তার শাগরেদরা। জেলে যাবার পর শাহজাহানের আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিল তার আত্মীয় রমজান মোল্লা। আর কোথায় কোথায় আগ্নেয়াস্ত্র লুকনো রয়েছে, রমজান ও তার সহযোগীদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

সন্দেশখালিতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে শাহজাহান বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিকরা। তৃণমূল সরকারের ‘প্রতিবন্ধকতা’য়  তাকে প্রথমে ধরা যায়নি। আদালতের চাপে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয় মমতা সরকারের পুলিশ। ইডির মামলাতেই জেলবন্দি তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। তার কাছে যে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা আছে, তা বারবার দাবি করে আসছিলেন তদানীন্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার অঙ্গুলিহেলনে তল্লাশি তো দূর, বরং এই অস্ত্র যাতে নিরাপদে রাখা যায় তার ব্যবস্থা করা হয়। পালাবদল ঘটতেই সন্দেশখালির বাসিন্দারা পুলিশের কাছে এসে জানান, শাহজাহানের আত্মীয় রমজান মোল্লা অস্ত্র ব্যবসা চালাচ্ছে। ভেড়ি, পুকুরসহ নির্মীয়মান বাড়িতে আর্মস লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালেই বেঙ্গল এসটিএফের বিরাট ফোর্স সন্দেশখালির সরবেড়িয়া বাজারে হাজির হয়ে প্রথমে শাহজাহানের এক ঘনিষ্ঠ শাগরেদ লুৎফরকে পাকড়াও করে। তাকে সঙ্গে নিয়ে শাহজাহানের ঘাঁটি আকুঞ্জি পাড়ায় পৌছে চরাবিদ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা মৎস্য ব্যবসায়ী রমজান মোল্লা ও রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাদের সঙ্গে নিয়ে আকুঞ্জি পাড়ায় নির্মীয়মান বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার হয়। অন্য একটি টিম সন্দেশখালির-২ ব্লকের মণিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা গোপাল ও রবীন দাসের বাড়িতে পৌঁছে, এই দুই ভাই সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সঙ্গে নিয়ে মাছ চাষের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে ১৪টি অস্ত্র উদ্ধার হয়। এর সঙ্গে মেলে প্রচুর কার্তুজ। 
তদন্তে উঠে এসেছে, রমজান মোল্লা আগ্নেয়াস্ত্রের গোটা কারবারটা চালাচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র মাছের ভেড়ি পাহারা, এলাকায় ভয় দেখানো, গোলমাল পাকানো সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো। স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, একে সিরিজের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল শাহজাহানের কাছে। যদিও তা এখনও উদ্ধার হয়নি। অত্যাধুনিক অস্ত্র শাহজাহান চীন থেকে ভায়া বাংলাদেশ থেকে আনাত। জলপথে তা সন্দেশখালিতে পৌঁছত। এই আগ্নেয়াস্ত্র রাখা থাকত ধামাখালিতে তাঁর হোটেলে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর থেকে জাল লাইসেন্স তৈরি করে এনে এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকা দাপাত শাহজাহান বাহিনী। শাহজাহান জেলে যাবার পর এই অস্ত্র ভেড়ি ও পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তল্লাশি হলেও যাতে খোঁজ না মেলে। অস্ত্র কারা সরবরাহ করত, ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ