Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৈরি সামগ্রীর বাজার নেই, স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরিতে পিছিয়ে পুরুলিয়া

তৈরি সামগ্রীর বাজার নেই, স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরিতে পিছিয়ে পুরুলিয়া
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: নিজেদের তৈরি সামগ্রী বাজারজাত করার বিশেষ সুবিধা নেই। নতুন কিছু যে শুরু করবেন, তারজন্য নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও। তার জেরে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরিতে ক্রমশই আগ্রহ হারাচ্ছেন পুরুলিয়া জেলার মহিলারা। সেকারণে রাজ্যের তরফে জেলায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। 
Advertisement
সময়মতো পরিশোধ করলে ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের অধীনে বার্ষিক মাত্র দু’শতাংশ হারে ঋণ পায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। একটি গোষ্ঠী তৈরি হওয়ার ছ’মাস পর পদ্ধতি মেনে তারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। নতুন অ্যাকাউন্টে শুরুতেই দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। পরে ঋণের পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ে। প্রতি বছরই সরকারি উদ্যোগে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে অনেকে নতুন ব্যবসা শুরু করেন। আবার বহু মহিলা ও গোষ্ঠী পুরনো ব্যবসা বাড়ান। গত কয়েক বছর ধরেই ঋণ দেওয়ার বিষয়কে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তর। ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে বৈঠক করে ঋণ দানের লক্ষমাত্রা ঠিক করা হয়। এক বছরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা ঋণ নিতে কতটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে পরের বছরের টাকার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়। তবে, পুরুলিয়া জেলার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোনও বছরই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। 
জেলার গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিসি) সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় বর্তমানে ৪৫হাজারের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে পুরুলিয়া জেলাকে মোট ৭৪৯কোটি ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে, গত ন’মাসে মাত্র ২৮০কোটি টাকা ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রের খবর, রাজ্য থেকে যে টার্গেট দেওয়া হয়, তা কোনও বছরই পূরণ হয় না। গত অর্থবর্ষেও লক্ষ্যমাত্রা অধরাই ছিল। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর নতুন গোষ্ঠী তৈরির ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয় রাজ্য। কিন্তু তাও অধরা রয়ে যায়। চলতি অর্থবর্ষেই মোট ৩৬০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ১০ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৩২৪টি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। 
গোষ্ঠী তৈরিতে কেন পিছিয়ে রয়েছে জেলা? দপ্তর সূত্রের খবর, ঋণ নিয়ে সাধারণত মহিলারা বিভিন্ন সামগ্রী নিজেদের হাতে তৈরি করে বিক্রি করেন। কেউবা ছোটখাট ব্যবসা করছেন। কেউ কেউ দোকান খুলছেন। তবে, নিজেদের সামগ্রী বাজারজাত করার বিশেষ সুবিধা পুরুলিয়া জেলায় নেই। তাছাড়া মহিলারা ব্যবসা যে করবেন, তারও আদবকায়দা জানা নেই। এব্যাপারে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই। জেলা যে কিছুটা পিছিয়ে আছে, তা মানছেন ডিআরডিসির প্রজেক্ট ডিরেক্টর কমলচন্দ্র দে। যদিও তিনি বলেন, গোষ্ঠী তৈরির যে টার্গেট দেওয়া হয়েছে তা অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করি। গত ২ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এমএসএমই মান্থ। ব্লকস্তরে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ শিবির করে আমরা আবেদনপত্র সংগ্রহ করছি। তাছাড়া মেগা ক্রেডিট ক্যাম্প করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ