সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বন্ধ জুটমিল খুলছে শিল্পাঞ্চলে। আসছে নতুন বিনিয়োগ। হবে চার হাজার কর্মসংস্থান। রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর জুটমিল খোলার খবরে তাই খুশির হাওয়া। জানা গিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জুটমিলটি। চালু করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা সেটি খুলতে আগ্রহ দেখিয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগ করে কারখানা খুলতে চলেছে তারা। ১৫০ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই জুটমিল খুললে শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্প সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে আশায় সব পক্ষ। রাজ্যের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুও।
Advertisement
রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘আগামী পয়লা ডিসেম্বর থেকেই কারখানাটি নতুন করে খুলছে। আমাদের সরকার এই কারখানা খোলার বিষয়ে ক্রমাগত চেষ্টা করে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যের উজ্জ্বল শিল্প সম্ভাবনা দেখেই নতুন ব্যবসায়ী এখানে বিনিয়োগ করলেন।’ সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাজ্যে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা বার বার জুটমিলটি খোলার ক্ষেত্রে সদর্থক চেষ্টা করেছে। আমাদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। আমাদের তরফে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’ মঙ্গলপুর শিল্পতালুকটি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই। সেখানেই ওই জুটমিলটি একদা রমরমিয়ে চলত। কিন্তু নানা কারণে মিলটি ২০১১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন হন বহু মানুষ। রাজ্যের শ্রমদপ্তর ৮২৬ জন শ্রমিককে ভাতা দিতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে ভূতুড়ে বাড়ি হয়েই পড়েছিল জুটমিলটি। যার জেরে রানিগঞ্জের শিল্প মানচিত্রে খারাপ প্রভাব পড়ে। প্লাস্টিকের ব্যবহার সরিয়ে ফের জুটের ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তারপর থেকেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর কাছে এই জুটমিলটি খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অবশেষে সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে। কারখানা অধিগ্রহণ করে তা খুলতে তৎপর হয় একটি বেসরকারি সংস্থা। তারপরই সিটুর জেলা সম্পাদক, আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি, সহ শ্রমিক নেতৃত্ব ও মালিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে করে শ্রমদপ্তর। সিদ্ধান্ত হয়, ভাতা পাওয়া ৮২৬ জনকে প্রথম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হবে। তারপর নতুনদের চাকরি হবে। প্রশাসনের দাবি, প্রায় চার হাজার কর্মসংস্থান হবে এই জুটমিলে। মিলটি খোলার আগে ঢালাও সংস্কারের কাজ করা হবে। প্রতিটি কাজেই শ্রমিক সংগঠনগুলি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। একটা সময়ে এই জুটমিল থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে নিচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছিল। স্বভাবতই জুটমিল খোলার খবরে খুশি রানিগঞ্জের সাধারণ মানুষও। রানিগঞ্জের কাউন্সিলার জ্যোতি সিং বলেন, ‘এই জুটমিল মঙ্গলপুরের অন্যতম বড় কারখানা ছিল। নতুন করে এই কারখানা খুললে এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে। আর্থ-সামাজিক অবস্থার বদল ঘটবে।’ ফেডারেশন অফ সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যাণ্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ খৈতান বলেন, ‘বন্ধ কারখানা খোলা যে কোনও শিল্পাঞ্চলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আনন্দের খবর। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’



