সংবাদদাতা, লালবাগ: মহরম উপলক্ষ্যে জুলাইয়ের অফ সিজনেও পর্যটকরা মুর্শিদাবাদে ভিড় জমাচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরে হাজারদুয়ারি, ইমামবারা, কাটরা মসজিদ, প্রকৃতি তীর্থ, মোতিঝিল সহ দর্শনীয় স্থানগুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে কুরবানির পর সাবেক নবাবি তালুকের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হলেও খুশির হাওয়া পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলে।
সাবেক নবাবি মুলুক মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদাবাদ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজারদুয়ারি, ইমামবাড়া, কাটরা মসজিদ প্রভৃতি নবাবি আমলের স্মৃতি বিজড়িত একাধিক স্থাপত্য ও ভাস্কর্য নিদর্শন। ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রায় সারা বছর ধরে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সারা বছর হাজারদুয়ারি, কাটরা মসজিদ সহ অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শনগুলি পর্যটকদের জন্য খোলা থাকলেও ইমামবাড়া বন্ধ থাকে। তবে মহরমের দশদিন আগে সর্বসাধারণের জন্য ইমামবাড়া খুলে দেওয়া হয়। বছরের এই দশটি দিন দর্শনার্থী বা পর্যটকরা ইমামবাড়ার ভিতরে প্রবেশের সুযোগ পান। স্বাভাবিকভাবেই নবাবি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন ইমামবাড়া ঘুরে দেখতে পর্যটকরা এই সময়ে মুর্শিদাবাদে ভিড় জমান। ট্যুরিস্ট গাইড আজমল শেখ বলেন, ইমামবাড়ার টানেই এই কয়েকটা দিন পর্যটকরা ভিড় জমান। ফলে অফ সিজনেও রোজগার হয়। টাঙাচালক সোহেল শেখ বলেন, পর্যটকরা ইমামবাড়া দেখতে এলেও অন্যান্য স্পটগুলিও ঘুরে দেখেন। হোটেল ব্যবসায়ী স্বপন দাস বলেন, মুর্শিদাবাদের পর্যটনে মার্চ মাস থেকে অব মরসুম শুরু। মাঝে ইদ ও কুরবানি উপলক্ষ্যে দিনকয়েক পর্যটক সমাগম হয়েছিল। কুরবানির পর পর্যটকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছিল। মহরম উপলক্ষ্যে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পর্যটকরা আসছেন। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন আনসার শেখ। দু’বছর আগে ইদে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু তখন ইমামবাড়া বন্ধ থাকায় ভিতরে ঢুকে ঘুরে দেখা হয়নি। সেই কারণে মূলত ইমামবাড়া দেখতে নবাবের শহরে এসেছি। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, মহরমের আগে ১০ দিন বাদে সারা বছর ইমামবাড়া বন্ধ থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ভিতরে কি রয়েছে তা নিয়ে সকলের মধ্যেই একটা কৌতুহল রয়েছে। সেই কারণে অনেকেই ইমামবাড়া দেখতে এই সময়ে মুর্শিদাবাদে ছুটে আসেন। এই সময়ে পর্যটক সমাগম হওয়ায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হন।