


সংবাদদাতা,কাঁথি: খেজুরিতে নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে সমুদ্রসৈকতে নেমে গিয়েছিল পর্যটকদের গাড়ি। জোয়ারের জল এবং বালি ও কাদায় চাকা আটকে গাড়িটি বসে যায়। ক্রমেই তলিয়ে যেতে থাকে গাড়িটি। শেষমেশ পুলিসি তৎপরতায় ট্রাক্টর নিয়ে এসে গাড়িটিকে কোনওভাবে উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিকেলে খেজুরি-২ ব্লকের নিজকসবার হিজলি মসনদ-ই-আলার সমুদ্রসৈকতের ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার প্রেক্ষিতে সৈকতে বাইক, চারচাকা সহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধে নজরদারি বাড়াচ্ছে তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার চণ্ডীপুর থেকে গাড়িতে একটি পরিবারের লোকজন মসনদ-ই-আলার মাজার দর্শন সহ সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসেন। তাঁরা গাড়ি নিয়ে সটান সৈকতে নেমে পড়েন। খেজুরিতে মসনদ-ই-আলার সৈকত বেশ জনপ্রিয়। এখানে রোজই বহু মানুষ ভিড় জমায়। অন্যান্য সৈকতের মতো মসনদ-ই-আলার সৈকতেও যানচলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বোর্ডও টাঙানো রয়েছে। এমনকী, টহলরত সিভিক ভলান্টিয়াররা ওই পর্যটক দলকে সৈকতে গাড়ি নিয়ে নামতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু, তাঁরা শোনেননি। সৈকতে গাড়ি নিয়ে অনেক দূরে চলে যান। এদিকে, বাড়তে থাকে জোয়ারের জল। বালিতে চাকা আটকে বসে গাড়িটি একেবারে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বেগতিক দেখে গাড়ির চালক সহ সওয়ারিরা নেমে পাড়ে চলে আসেন। গাড়িটি উদ্ধারে তাঁরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সাহায্য চান। কিন্তু, মৎস্যজীবীরা প্রথমে গাড়িটি ঠেলে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে চলে আসে। পুলিস স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে একটি ট্রাক্টরের ব্যবস্থা করে। শেষমেশ গাড়িটিতে অ্যাঙ্গেল লাগিয়ে ট্রাক্টরের সাহায্যে সেটিকে টেনে পাড়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার ওসি চন্দ্রকান্ত শাসমল বলেন, গাড়ির চালক সহ ওই পর্যটক দলটিকে সতর্ক করা হয়েছে। সৈকতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি টহলরত সিভিক ও পুলিসকর্মীদের সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করলে পুলিস-প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা হবে। -নিজস্ব চিত্র