Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফিরতে হচ্ছে ছ’ঘণ্টার মধ্যেই, বক্সা ফোর্ট, লেপচাখা থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা , ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

পর্যটনের ভরা মরশুমে বক্সা ফোর্ট এবং লেপচাখাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন পর্যটকরা। ঘুরতে গিয়ে মাত্র ছ’ঘণ্টার মধ্যেই ওই এলাকা থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে পর্যটকদের।

ফিরতে হচ্ছে ছ’ঘণ্টার মধ্যেই, বক্সা ফোর্ট, লেপচাখা থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা , ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: পর্যটনের ভরা মরশুমে বক্সা ফোর্ট এবং লেপচাখাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন পর্যটকরা। ঘুরতে গিয়ে মাত্র ছ’ঘণ্টার মধ্যেই ওই এলাকা থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে পর্যটকদের। ফলে পর্যটনের মরশুমেও পর্যটকদের ভিড় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। একদিকে যেখানে পর্যটকরা সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি ভরা পর্যটন মরশুমে ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সেখানকার হোমস্টে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। এই সমস্যা সমাধানে  দ্রুত পদক্ষেপের দাবি  তুলেছে সমস্ত স্তরের পর্যটন প্রিয় মানুষ। 

Advertisement

এই প্রসঙ্গে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পর্যটক, বন এবং বন্যপ্রাণ সুরক্ষিত রেখে যা সমাধান সূত্র বের করা সম্ভব, আমরা অবশ্যই তা করব। 
ওয়াকিবহাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বক্সা ফোর্ট, জয়ন্তী, লেপচাখাতে গ্রিন ট্রাইব্যুনালের আইন লাগুর পরিকল্পনা করে কোর এরিয়া ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সেই কারণে সমস্যা বাড়ছে। স্থানীয় বনবস্তির অনেক বাসিন্দা পুনর্বাসন পেয়ে বনছায়া বস্তিতে চলে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে থাকা একাংশ বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যেতে রাজি নন। একসময় বক্সা ফোর্ট এবং লেপচাখা এলাকায় মানুষের ভিড় উপচে পড়ত। পর্যটন মরশুমে এই ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হত প্রশাসনকে। স্থানীয় হোমস্টেগুলিতে যথেষ্ট ভিড় থাকত। যার ফলে লাভের মুখ দেখতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানে সেই সমস্যা বাড়ছে। রাজাভাতখাওয়া থেকে সাফারির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যদিও কোনোভাবেই ছ’ঘন্টার বেশি ওই এলাকায় থাকতে দিচ্ছে না বনদপ্তর। যা নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসু বলেন, বক্সা ফোর্ট এবং লেপচাখা এলাকায় পর্যটকদের রাত্রিবাস তোর দূর, ছ’ঘণ্টার বেশি থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। যার ফলে অনেকেই বুকিং করেও শেষ পর্যন্ত আসতে চাইছেন না। একারণে আমাদের ভুগতে হচ্ছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি তন্ময় গোস্বামী বলেন, ওই এলাকার মানুষ স্বল্প আয় করত এই পর্যটন মরশুমে। বনদপ্তরে একাংশ এবিষয়ে উদাসীন। পর্যটন দপ্তর ও রাজ্য সরকার আলোচনা করে এবিষয়ে পদক্ষেপ করা উচিত। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট সান্যাল বলেন, এবিষয়ে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করুক। ওই এলাকার মানুষের পাশাপাশি পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে এই মরশুমে ঘুরতে আসতে পারেন সেই ব্যবস্থা হলে সকলেই উপকৃত হবে। 
আর এক পর্যটন ব্যবসায়ী দেবাশিস মৈত্র বলেন, ওই এলাকাকে কোর এলাকা ঘোষণা করার পর থেকেই সেখানকার মানুষদের নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। পর্যটন দপ্তর এবিষয়ে পদক্ষেপ করলে পর্যটনে আরও ভালো ফল মিলবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ