সংবাদদাতা, হলদিয়া: অমৃতভারত কর্মসূচীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের প্রথম দু'টি হোভারক্রাফট যুক্ত হল হলদিয়া কোস্টগার্ড স্কোয়াড্রনে। গোয়া চৌগুলে শিপইয়ার্ডে তৈরি নতুন দু'টি এয়ার কুশন ভেহিকেল বা হোভারক্রাফট শনিবার হলদিয়া এসে পৌঁছয়। এদিন 'ওয়েলকাম সেরিমনি' মাধ্যমে ওই হোভারক্রাফট দু'টিকে স্বাগত জানান হলদিয়া উপকূলরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা।
নদী ও সমুদ্রের খাঁড়ি এলাকায় চরভূমি ও জলে চলাচল করতে পারে বলে এগুলি উভচরযান হিসেবে পরিচিত। উপকূলরক্ষী বাহিনী সুন্দরবন এলাকায় অগভীর খাঁড়ি এলাকায় হোভারক্রাফটের মাধ্যমে গত পঁচিশ বছর ধরে নজরদারি চালাচ্ছে। কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতদিন হোভারক্রাফটের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল। ব্রিটেনের একটি সংস্থা ওই হোভারক্রাফট এতদিন সরবরাহ করত। প্রযুক্তিগত কারণে এবং মেরামতের সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। এবার দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারত প্রথম হোভারক্রাফট তৈরি শুরু করল। প্রথম তৈরি দু'টি হোভারক্রাফট এল হলদিয়ায়। এগুলি প্রযুক্তির দিক থেকে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী। ফলে সুন্দরবনে আন্তর্জাতিক জলসীমা এলাকায় নজরদারির ক্ষেত্রে এলাকা আরও বাড়বে বলে দাবি কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষের। এইচ ৫৬১ এবং এইচ ৫৬২ দু'টি নতুন হোভারক্রাফট হলদিয়া কোস্টগার্ডের এইট্টিটইট হোভারক্রাফট স্কোয়াড্রনে যুক্ত হয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গোয়া থেকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি সমুদ্রপথ পেরিয়ে নতুন জলযান দু'টি হলদিয়া এসে পৌঁছন ছিল চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেকাজে সফল হওয়ার বিষয়টি দেশীয় প্রযুক্তির বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন কোস্টগার্ডের বিশেষজ্ঞরা। গত ৭ অক্টোবর রওনা দিয়েছিল দু'টি হোভারক্রাফট। বিশাখাপত্তনমে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ১৫দিন আটকে ছিল। মূলত ১৫দিনে এত পথ পাড়ি দিয়ে এগুলি হলদিয়া পৌঁচেছে। আগামী ২০ নভেম্বর দু'টি হোভারক্রাফট কমিশনিংয়ের পর অনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে।



