মালদহ: রাতে ভর্তি হতে আসা সন্তানসম্ভবাকে ফেরানো যাবে না, কড়া নির্দেশ জারি
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: রাতের বেলা প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হতে আসা কোনো অন্তঃসত্ত্বাকে ফেরানো যাবে না। ওই সন্তানসম্ভবার যদি প্রসবের সময় না হয়ে থাকে, তবুও রাতে ভর্তি নিয়ে নজর রাখতে হবে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর। পরদিন সকালে প্রয়োজনে ইউনিট ইনচার্জ কিংবা বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগে রাত্রি নিবাসে এক মহিলার প্রসবের ঘটনার জেরে শুক্রবার এমনই নির্দেশ জারি করেন মালদহ মেডিকেলের এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন। সেইসঙ্গে প্রসবের পর ট্রলি না মেলায় বস্তা ও চাদরে মুড়ে প্রসূতি ও সদ্যোজাতকে হাসপাতালের রাত্রি নিবাস থেকে মাতৃমা বিভাগে নিয়ে যেতে হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও মারাত্মক চটেছেন এমএসভিপি। এদিন তিনি বলেন, অনেক রোগীর পরিবারের অভিযোগ, যদি হারিয়ে যায়, সেকারণে নাকি রাতবিরেতে তাঁদের হাতে ট্রলি দেওয়া হয় না। কয়েকটা ট্রলি একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। কিন্তু এমনটা হবে কেন? আর রোগীর পরিবারের হাতেই বা ট্রলি কেন দেওয়া হবে? তাহলে হাসপাতালের কর্মীরা কী করতে রয়েছেন? সুপারের বক্তব্য, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের মধ্যে যেখানে ট্রলি লাগবে, নিয়ে যেতে হবে। এরপর যদি অভিযোগ ওঠে, রোগীর পরিবার চেয়েও ট্রলি পায়নি, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকেও হাসপাতালগুলির পরিষেবা উন্নত করতে কড়া নির্দেশ দেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। 

Advertisement

এদিকে, গত বুধবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে আসা গাজোলের রানিগঞ্জের বাসিন্দা সেমন্তী টুডু (২২) নামে যে অন্তঃসত্ত্বাকে ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার তদন্তে এদিন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এমএসভিপি। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা নিজেদের পক্ষে সাফাই দিয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বার পরিবারের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। আজ, শনিবার প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন সুপার। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রথমে বুধবার রাত ৯টা ২৬ মিনিটে ওই অন্তঃসত্ত্বাকে একজন হাউস স্টাফ দেখেন। এর পর এগারোটা নাগাদ দেখেন একজন সিনিয়র রেসিডেন্ট। এরপর পরীক্ষা করে বলেন, প্রসবের দেরি আছে। তখন মহিলার পরিবার অন্তঃসত্ত্বাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে যেতে চান। এই মর্মে তাঁরা সইও করে দেন। 
এমএসভিপির বক্তব্য, ডাক্তারদের বক্তব্য শুনেছি। প্রসূতির পরিবার যেহেতু ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ করেছে, ফলে এখন তাদের বক্তব্যও জানতে হবে। তবে এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সেজন্য মাতৃমা বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের সতর্ক করেছেন এমএসভিপি।