পৌষমেলার প্রস্তুতি শুরু বিশ্বভারতীর, ১৫ নভেম্বর থেকে অনলাইনে স্টল বুকিং শুরু
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করল বিশ্বভারতী। মেলার বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গঠন করা হল একাধিক কমিটি ও উপসমিতি। মাঠের পরিকাঠামো, স্টল বণ্টন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পরিবহণ, আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে পৃথক কমিটিগুলির মধ্যে। বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিগুলির চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক ও সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এ তো প্রতি বছর হয়। এবারও ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা পরিচালনা করার জন্য তা গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

উপাচার্য অধ্যাপক প্রবীর কুমার ঘোষকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি। আহ্বায়ক অধ্যাপক অমিতকুমার হাজরা এবং সহ-আহ্বায়ক অধ্যাপক বিনয়কুমারসরেন। কমিটিতে বিভিন্ন ভবনের অধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রোক্টর, জনসংযোগ আধিকারিক-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আধিকারিক ও কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। মেলায় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সঙ্গীতভবনের অধ্যক্ষকে চেয়ারম্যান করে পৃথক কমিটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাঁওতালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যও পৃথক উপসমিতি গঠন করা হয়েছে। 
মেলার মাঠের বিন্যাস ও পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লে-আউট অ্যান্ড ইরেকশন উপসমিতিকে। অন্যদিকে, স্টল বণ্টন, ভাড়া আদায় এবং মেলা শেষে স্টল খালি করার দায়িত্বে রয়েছে পৃথক কমিটি। স্টল বুকিং প্রসঙ্গে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ভ্রমর ভাণ্ডারী বলেন, আমাদের উপাচার্য মহাশয়ের নির্দেশ মতোই আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে অনলাইনে স্টল বুকিং শুরু হয়ে যাবে। যাতে কোনও ব্যবসায়ীর অসুবিধা না হয়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ এবং বিদ্যুতের ভাড়া আদায়ের জন্যও পৃথক কমিটি হয়েছে। নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণের জন্য তৈরি হয়েছে দুটি উপসমিতি। এছাড়া অতিথিদের যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে রয়েছে পরিবহণ, আবাসন, ফার্স্ট এইড ও স্যানিটেশন কমিটি। এবার পরিবেশবান্ধব মেলা আয়োজনের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে ইকো-ফ্রেন্ডলি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট উপসমিতি। পাশাপাশি প্রদর্শনী, রান্নার ব্যবস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের জন্যও পৃথক কমিটি করা হয়েছে। মেলায় খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা দেখভালের জন্য রয়েছে ফুড সেফটিঅ্যান্ডসিকিউরিটিউপসমিতি।
এবারও পূর্বপল্লীর মাঠে ছ'দিনের পৌষমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেলা শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাঠ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকবে বোলপু রপুরসভা। নিরাপত্তার জন্য থাকবে সিসিটিভি নজরদারি। মেলা সংক্রান্ত তথ্য জানাতে তৈরি হচ্ছে নতুন ওয়েবসাইটও।