সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকতশহর দীঘার মতো মন্দারমণি পর্যটন কেন্দ্রেও রাস্তাঘাট আলোকিত করার দাবি তুলেছেন পর্যটক সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্দারমণি সংলগ্ন দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর সৈকত থেকে মিউজিক ভিডিও পরিচালককে অপহরণের ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে জোরদার প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে স্থানীয় দোকানদার, পর্যটক, হোটেল ব্যবসায়ী সকলেই। আলোর ব্যবস্থার দাবি প্রথম থেকেই রয়েছে। এই ঘটনায় সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। পুলিসি নজরদারি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে। দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর থেকে মন্দারমণির শেষ প্রান্তে তাজপুর ব্রিজ কিংবা ব্রিজ পেরিয়ে তাজপুর পর্যটন কেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তার পাশে আলোর কোনও ব্যবস্থাই নেই। পর্যটকদের নিজেদের গাড়ি, দোকানপাটের আলোই ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা মন্দারমণিতে পথবাতির বসানোর দাবি তুলেছেন।
উল্লেখ্য, শৌলা থেকে দীঘা পর্যন্ত ৩০কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ রাস্তার মধ্যে মন্দারমণিতে ১৫কিলোমিটার অংশ রয়েছে। এই রাস্তাটি দিয়ে পর্যটকরা যেমন আসা-যাওয়া করেন, তেমনই রামনগরের কালিন্দী, তালগাছাড়ি-২ পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যবহার করেন। কিন্তু, দীঘার তুলনায় মন্দারমণি অনেক বেশি নির্জন। তাই পর্যটকদের একাংশ মন্দারমণিতে বেড়াতে আসতে পছন্দ করে। সমস্যা হল, দীঘায় যেমন পর্যটকরা রাতেও বেরিয়ে উপভোগ করেন, তেমন মন্দারমণিতে হয় না। কারণ মন্দারমণিতে আলোর পরিকাঠামো খুবই দুর্বল। শুধুমাত্র দাদনপাত্রবাড়-১নম্বর ঘাটে বসার চাতাল সহ একাধিক হাইমাস্ট বাতিস্তম্ভ রয়েছে। সেখানেই পর্যটকরা মূলত ভিড় জমান। বাকি সৈকতগুলি পরিকাঠামোহীন। আলোর ব্যবস্থাও নেই। তাই সেগুলিতে ভিড় হয় না। সূর্য ডোবার পর পর্যটকরা হোটেলেই থাকতে বাধ্য হন। হোটেল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যার পর পর্যটকদের সৈকতে যেতে বারণ করে। বেশ কয়েক মাস আগে মন্দারমণির রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে। দাদনপাত্রবাড়ের বাসিন্দা অমিতশঙ্কর দাস বলেন, পুলিসি নজরদারি পর্যাপ্ত নয়। অনেক পর্যটকই এখানে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হল্লা করেন। অসামাজিক কাজকর্মও হয়। রাস্তা সম্প্রসারণ হলেও আলোর ব্যবস্থা নেই। পথবাতি বসাতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে।
অভিযোগ, দীর্ঘ সৈকতে নজরদারি চালানোর মতো পরিকাঠামো এবং পুলিসকর্মী মন্দারমণি থানায় নেই। মাসতিনেক আগেই মালদহের মোথাবাড়ির বাসিন্দা এক যুবককে মন্দারমণির হোটেল থেকেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। আরও বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ঘটেছে। নবতম সংযোজন হল পরিচালক অপহরণ-কাণ্ড। স্থানীয়দের কথায়, শনি ও রবিবার ছুটির দিনগুলি মন্দারমণিতে ভালোই ভিড় হয়। ওই দিনগুলিতে পুলিসি টহলদারি থাকে। বাকি দিনগুলিতে সেভাবে দেখা যায় না। মন্দারমণি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর মমরেজ আলি বলেন, আলোর ব্যবস্থা থাকলে বৃহস্পতিবার অপহরণের ঘটনাটি দুষ্কৃতীদের পক্ষে ঘটানো মোটেই সহজ হতো না। আমরা ইতিপূর্বে মন্দারমণির রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি। পুলিসি নজরদারিও বাড়ানোর প্রয়োজন। ডিএসডিএর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন, মন্দারমণি ও তাজপুরের ওই অংশে পথবাতি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, মন্দারমণি সহ সব সৈকত এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিসি টহলদারি ও নজরদারি থাকে। তবে আমরা তা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছি।