Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়াদের রঙিন চুল, কানে দুল, ট্যাটু নিষেধ, রামপুরহাটের জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনে নোটিস

শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ করল রামপুরহাটের ঐতিহ্যবাহী জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন। চুল রং করে, গায়ে ট্যাটু এঁকে, কানে দুল পরে ছাত্রদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে নোটিস জারি করল।

পড়ুয়াদের রঙিন চুল, কানে দুল, ট্যাটু নিষেধ, রামপুরহাটের জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনে নোটিস
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ করল রামপুরহাটের ঐতিহ্যবাহী জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন। চুল রং করে, গায়ে ট্যাটু এঁকে, কানে দুল পরে ছাত্রদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে নোটিস জারি করল। মোবাইল নিয়েও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মোবাইল সঙ্গে নিয়ে ক্লাস করতে পারবেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ।

Advertisement

১৯৫৫ সালে স্থাপিত রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন। এই স্কুলে ‌সন্তানদের ভর্তি করাতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন অভিভাবকরা। ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের সেরা দশের তালিকায় স্থান পেয়ে আসছে। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কিন্তু এই নামী বিদ্যালয়ে পডুয়াদের নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার নিয়েছে। চুলে রং করা, কানে দুল পরা, মোবাইল ফোন নিয়ে বাইক চালিয়ে স্কুলে আসা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্লাসরুমে বসে রিলস বা ভিডিও বানানোর প্রবণতা বেড়েছে। যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সেই কারণেই কঠোর এবং নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ করতে বাধ্য হল স্কুল কর্তৃপক্ষ। গরমের ছুটির পর আজ সোমবার থেকে স্কুল খুলছে। তার আগেই স্কুলের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে ও বিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে নোটিস। তাতে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, চুলে রং করে, ট্যাটু এঁকে, কানে দুল পরে ছাত্ররা বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারবে না। সেই সঙ্গে মোবাইল, বাইক কিংবা স্কুটি নিয়ে স্কুলে আসা চলবে না। স্কুলের ইউনিফর্ম ছাড়া প্রবেশও নিষিদ্ধ। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা একটি অত্যন্ত কঠোর ডিসিপ্লিনারি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে। 
প্রধান শিক্ষক কৌস্তব দত্ত বলেন, স্কুল ফ্যাশন শো বা বিনোদনের জায়গা নয়। শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ে এবং পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও ক্লাস চলকালীন ফোন ব্যবহারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাতে পঠন পাঠনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। অনেক অভিভাবকই বিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা না থাকলে শিক্ষাদানের মূল উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে যাবে।  রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন। (ইনসেটে) জারি করা নোটিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ