সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘আমি মন্ত্রী হচ্ছি? সত্যি? আমাকে আবার শপথ নিতে হবে?’ ফোনের ওপার থেকে কথাগুলি বলার সময় আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি। তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘তারজন্যই হয়তো আমাকে রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে তড়িঘড়ি কলকাতায় যেতে বলা হয়েছে। দল আমাকে এত বড় সম্মান দেবে বলে কোনোদিন ভাবিনি। কথা দিলাম মন্ত্রী হয়েও একইরকম কাজ করব। মানুষের সঙ্গেই থাকব। মানুষের সমস্যায় ছুটে যাব। আমার প্রথম কাজ হবে গুসকরায় একটি ভালমানের হাসপাতাল তৈরি করা। সেটা করবই। আমার মত মানুষের এত কষ্ট আর কে দেখেছে বলুন তো?’
সত্যিই তো তাঁর মতো এত কষ্টের সম্মুখীন আর কে হয়েছে! শৈশব থেকেই জীবনের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। বিয়ে হওয়ার পর ভেবেছিলেন হয়তো সুদিন ফিরবে। কিন্তু, আর্থিক কষ্ট আর তাঁর পিছু ছাড়েনি। শ্বশুরবাড়িতেও সর্বত্র অনটনের ছাপ। সংসারের হাল ধরতে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। ভোরে উঠে বাড়ির কাজ সারতেন। তারপর বেরিয়ে পড়তেন অন্যের বাড়িতে কাজ করতে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর খাওয়াদাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়তেন। পাড়ার কারও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতেন। যতটা সম্ভব পাশে দাঁড়াতেন। এভাবে চলতে চলতেই তিনি এলেন বিজেপির ছত্রছায়ায়। নিয়মিত অফিসে বসা শুরু করতেন। তখন বিজেপির নামটা নিতেই অনেকেই ভয় পেতেন। কলিতা বলেন, ‘বিধায়ক হব বলে কোনোদিনই কাজ করিনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই রাজনীতিতে আসা। ২০২১ সালে প্রথমবার ভোটে দাঁড়াই। সেবার পরাজিত হওয়ার পর জীবনের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। পরিচারিকার কাজ যেমন ছাড়িনি, তেমন মানুষের পাশ থেকেও সরে যাইনি। আবার সুযোগ পেলাম বিধায়ক হওয়ার।’
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকালে রাজ্যস্তরের এক নেতা তাঁকে কলকাতায় ফোন করে ডাকেন। তখনও তাঁকে জানানো হয়নি তিনি মন্ত্রী হবেন বলে। তাই তিনি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধির কাছে থেকে খবরটা পেয়ে অবাক হয়ে যান। তিনি উৎসাহ নিয়েই বলতে থাকেন, ‘মন্ত্রী হলে আবার শপথ নিতে হবে? সত্যিই আমি মন্ত্রী হব বলে ভাবতে পারছি না। দলকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। আমার মতো মহিলাকে এত বড় সম্মান হয়তো বিজেপি বলেই দিতে পারে।’
আজ যখন কলিতা মাঝি মন্ত্রিত্বের শপথ নেবেন তখন হয়তো আবেগে ভাসবে আউশগ্রাম। আর অনুপ্রেরণা পাবেন কলিতার মতো লড়াকু মহিলারা। আউশগ্রামের বিধায়ক বলেন, ‘মানুষের পাশে থাকলে সাফল্য আসবেই। মন্ত্রী হওয়ার পরও মানুষ আমাকে আগের মতোই পাবে। একইরকমভাবে মানুষের কাছে সমস্যার কথা শুনব।’