Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৩ ব্লকের পঞ্চায়েতে উধাও বার্থ রেজিস্টার! মালদহে এক বছরে ১ লাখ ৭০ হাজার সার্টিফিকেট ইস্যু

বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু নিয়ে অনিয়ম সামনে আসার পর জল গড়াচ্ছে। এক বছরে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে মালদহ জেলায়।

৩ ব্লকের পঞ্চায়েতে উধাও বার্থ রেজিস্টার! মালদহে এক বছরে ১ লাখ ৭০ হাজার সার্টিফিকেট ইস্যু
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সন্দীপন দত্ত, মালদহ:  বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু নিয়ে অনিয়ম সামনে আসার পর জল গড়াচ্ছে। এক বছরে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে মালদহ জেলায়। অথচ, দেখা যাচ্ছে তিনটি ব্লকে বহু গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে উধাও এই সংক্রান্ত রেজিস্টার। অনিয়মের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা।   

Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে জেলায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। যা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। এর মধ্যে যে তিনটি ব্লক থেকে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল কালিয়াচক -১, হরিশ্চন্দ্রপুর -২ এবং রতুয়া -১ ব্লক। শুধুমাত্র কালিয়াচক -১ ব্লকেই ইস্যু করা হয় ৩৮ হাজার ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট। এরপরেই রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর -২ নম্বর ব্লক। এই ব্লক থেকে গত এক বছরে ২১ হাজার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। রতুয়া -১ ব্লকে সেই সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার।
প্রশাসনের একাংশের ধারণা,এসআইআরে নাম তোলার জন্যই হয়তো এত বেশি সংখ্যায় মানুষ ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তুলেছে। কারণ এই তিনটি ব্লকে এসআইআরের শুনানিতে সবথেকে বেশি মানুষ ডাক পেয়েছিল। ভোটার তালিকায় সর্বাধিক মানুষের নাম বাদ পড়ে এই তিন ব্লক থেকেই। 
যদিও আধিকারিকদের একাংশের মতে, আধার কার্ড সংশোধন হোক বা এসআইআর, সে কারণেই হোক না কেন, মানুষ তাদের বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাইজেশন করিয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ করার সময় সরকারি রেজিস্টার মেনটেন করতে হয়। গ্রামাঞ্চলে রেজিস্টার মিলিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকেই বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এখন আধিকারিকরা যখন তদন্ত করতে যাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে এই তিনটি ব্লকের বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েতে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য যে রেজিস্টার থাকার কথা, তার হদিশই মিলছে না। আর এখানেই প্রশাসনিক কর্তাদের মনে অনিয়মের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। 
জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানান, বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাইজেশন করা হয়েছে। অথচ তার কোনো রেজিস্টার নেই। সরকারি অফিসে বহু পুরনো নথিও সংগ্রহ করে রাখা হয়। অথচ এখানে গত এক বছরের রেজিস্টার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের ওই পদস্থ কর্তার কথায়, তার মানে কোথাও একটা অনিয়ম নিশ্চয়ই হয়েছে। 
মালদহ জেলায় বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যুতে ইতিমধ্যে বড়ো অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। জেলার মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালের এক অস্থায়ী কর্মীকে এই ইস্যুতে শোকজ করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। ওই কর্মী নির্দিষ্ট পদ্ধতি না মেনে বিএমওএইচের ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করে দেদার সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তারপরেই প্রশাসনের নির্দেশে মালদহজুড়ে শুরু হয়েছে সমস্ত সরকারি হাসপাতালে বার্থ সার্টিফিকেটের নথি যাচাই। তালিকায় রয়েছে মালদহ মেডিকেল কলেজও। আপাতত, ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে চলছে নথি যাচাই। 

সম্পর্কিত সংবাদ