সংবাদদাতা, কাঁথি: পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে দীঘা সায়েন্স সেন্টারে। দীঘায় জগন্নাথ মন্দির চালু হওয়ার পর সায়েন্স সেন্টারে ভিড় আরও বেড়েছে। জগন্নাথ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি সায়েন্স সেন্টারে এসে বিজ্ঞানের নানা বিস্ময় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করছেন না পর্যটকরা। সায়েন্স সেন্টারে এমনিতেই রোজ হাজার-বারোশো পর্যটক আসেন। ছুটির দিন সংখ্যাটা একটু বাড়ে। তবে ৩০ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দির চালু হওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা ঊর্ধ্বগামী। গত এক সপ্তাহে কয়েকদিন হাজার থেকে দেড় হাজার দর্শনার্থী সায়েন্স সেন্টারে এসেছেন। রবিবার ছুটির দিনে দু’ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী সায়েন্স সেন্টারে এসেছেন। এমনটাই সায়েন্স সেন্টার সূত্রে জানা গিয়েছে।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞান সংগ্রহালয় পরিষদের পরিচালনায় নিউ দীঘায় এই সায়েন্স সেন্টার চলে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিজ্ঞানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরাও আসে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বিজ্ঞান বিষয়ক নানা কর্মশালা ও প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়।
সেন্টারে ঢোকার মুখে প্রকাণ্ড ডাইনোসর দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। ভিতরে ঢুকলে ‘দীঘা সায়েন্স সেন্টার’ লেখা আকর্ষণীয় বিল বোর্ড নজর কাড়বে। সায়েন্স সেন্টারের লাইফ সায়েন্স গ্যালারি, ফান সায়েন্স গ্যালারি ও রিফ্লেকশন গ্যালারিতে রয়েছে নানা আকর্ষণীয় আইটেম। তার মধ্যে অন্যতম লাইফ সায়েন্স গ্যালারি। গ্যালারিগুলিতে রয়েছে ভুলভুলাইয়া থেকে শুরু করে টকিং ডারউইন, ডলফিন-শো, হিউম্যান রেভোলিউশন, থ্রি ডি থিয়েটার প্রভৃতি। এখানে রয়েছে স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার, ইনোভেশন হাব, জুরাসিক পার্ক, ম্যাজিক ট্যাপ সহ নানা আকর্ষণীয় আইটেম। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে সায়েন্স সেন্টারে ‘ইনক্রেডিবল সান’ স্পেস শো, ল্যামিনার ওয়াটার করিডর, জিম পার্ক প্রভৃতি আইটেম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। ১৫ মিনিটের ইনক্রেডিবল সান স্পেস শো’তে সূর্য সম্পর্কে নানা বিষয় জানা যায়। রয়েছে সায়েন্স পার্ক। সেখানে হরেককরম গাছগাছালি যেমন রয়েছে, রয়েছে স্লিপার, দোলনা সহ বিজ্ঞান বিষয়ক নানা উপকরণ। সায়েন্স পার্কেই গড়ে তোলা হয়েছে জিম পার্ক, যেখানে বেড়াতে আসা সব বয়সের মানুষজন কিছু সময়ের জন্য মজাদার এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে শরীরচর্চা করতে পারবেন। শরীরচর্চা করার জন্য ছয় রকমের সরঞ্জাম রয়েছে। রয়েছে ল্যামিনার ওয়াটার করিডর বা সুবিন্যস্ত জলধারার গতিপথ। একদিক থেকে জল ফোয়ারার মতো সুবিন্যস্ত এবং গোল হয়ে সামনের একটি ঘেরা পাত্রে পড়ছে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে নীচে কোনও জল পড়ছে না। সেই করিডর দিয়ে সকলে যাতায়াতও করছেন। চলতি বছর বিশ্ব নারী দিবসে সারা ভারতবর্ষের ১০ জন মহিলা বিজ্ঞানীর আবক্ষ মূর্তি সেন্টারের সামনে বসিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সায়েন্স সেন্টারের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর হ্যামলেট গুড়িয়া ও এডুকেশন অফিসার বিশ্বরূপ দাস বলেন, আগের তুলনায় সায়েন্স সেন্টারে দর্শকের ভিড় বেড়েছে। পর্যটক তথা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের লক্ষ্যে কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বন্ধ হয়ে যাওয়া জুরাসিক পার্ককে নতুনভাবে সাজিয়ে চালু করা। তার পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।