সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বনবস্তির বাসিন্দাদের কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে মুখ্যমন্ত্রী নামাঙ্কিত বনছায়া গ্রামে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এবার বনছায়া গ্রামে বনবস্তিবাসীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য ট্যুরিজম প্রমোশন স্কিমে কমিউনিটি হল ও মুক্তমঞ্চ তৈরি হবে। এই স্কিমে বনছায়া গ্রামের মহিলাদের হসপিটালিটি ও হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
পুনর্বাসন পাওয়া বনবস্তিবাসীদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বনছায়া গ্রামে হোম স্টে তৈরির জন্য রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিজম প্রমোশন স্কিম থেকে হোমস্টে তৈরির জন্য বনবস্তিবাসীদের দুই কিস্তিতে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১০ জনের হাতে প্রথম কিস্তির ৫০ হাজার টাকা করে তুলে দিয়েছে প্রশাসন। এবার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তার সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের বনছায়া গ্রামে কমিউনিটি হল, মুক্তমঞ্চ ও ইকো পার্ক তৈরি হবে।
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বনছায়া গ্রামে ট্যুরিজম প্রমোশন স্কিমে কমিউনিটি হল, ইকো পার্ক ও মুক্তমঞ্চ তৈরি হবে। বনবস্তিবাসী মহিলাদের হসপিটালিটি, হস্তশিল্প তৈরি ও ট্যুরিস্ট গাইডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সারা দিনের কাজ শেষে বনবস্তিবাসীরা সন্ধ্যার পর যাতে নিজেদের কৃষ্টি সংস্কৃতির চর্চা করতে পারে তার জন্যই এই কমিউনিটি হল ও মুক্তমঞ্চ তৈরি হবে। বনবস্তিবাসীদের শিশুদের বিনোদনের জন্য তৈরি হবে একটি ইকো পার্ক।
বনছায়া গ্রামে থেকে ৪০০ মিটারের মধ্যে আছে বনানী ঘেরা ভুটান পাহাড়। আছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের গুম্ফা। বনছায়া গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে ছ’টি চা বাগান। এখানেই রয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি প্রাচীন গুহাও। কাছাকাছিই রয়েছে ভুটানের ফুন্টশোলিং ও জয়গাঁর কাছে পাশাখার নৈসর্গিক ঝরনা। বনছায়া গ্রাম ও আশপাশের এসব দ্রষ্টব্য স্থান পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানোর জন্যই স্থানীয় মহিলাদের প্রশাসন থেকে ট্যুরিস্ট গাইডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও। যাতে বনবস্তিবাসী মহিলারা নিজেরাই আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
জেলাশাসক জানান বনছায়া গ্রামে ইকো পার্কটি তৈরি হবে এক কোটি টাকা খরচ করে। সেখানে শিশুদের বিনোদনের জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম থাকবে। ট্যুরিজম প্রমোশন স্কিম থেকেই এই অর্থ খরচ করা হবে। সব মিলিয়ে কালচিনিতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের বনছায়া গ্রামটি অচিরেই জেলার নয়া পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে চলেছে।