Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এনবিএমসিতে টোটোর দৌরাত্ম্য, নেই নজরদারি

এনবিএমসিতে টোটোর দৌরাত্ম্য, নেই নজরদারি
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি:  হাসপাতাল না, টোটো নগরী? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে দেখে বোঝার উপায় নেই। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত করিডর ঘেঁষে রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকছে একের পর এক টোটো। গোটা হাসপাতাল চত্বরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে টোটো। যার অধিকাংশই নম্বর বিহীন। রোগী পৌঁছনোর নাম করে ঢুকে পড়ছে সমস্ত টোটো। তারপর শুরু হয় হাসপাতালের ভিতরে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় টোটোর দাপাদাপি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা দখল করে থাকায় রোগীদের নিয়ে পথ চলা দায় হয়ে পড়েছে।  মেডিসিন আউটডোরে ঢোকার ক্ষেত্রে মূল রাস্তা জুড়ে টোটো স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে। এই রাস্তা দিয়ে স্ট্রেচার তো দূরের কথা হাঁটিয়েই রোগীদের নিয়ে যেতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই টোটো চালকদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের। কোথাও নেই কোনও নজরদারি। 

Advertisement

এক বছর ধরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজগুলির মতো উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চারদিকের অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ও যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সবকিছুই শুরু হয়েছিল। কিন্তু সবকিছু থিতিয়ে যেতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল আবার অবারিত দ্বার হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। করিডরে বা করিডর ঘেঁষে দোকান বসছে। একারণে সাইক্রিয়াটিক বিভাগে রোগীদের স্ট্রেচারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি ক্ষেত্রে জাঁকিয়ে বসেছে চূড়ান্ত অনিয়ম। অথচ এধরনে পরিস্থিতি এড়াতে ঢালাও বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তারপরেও কোনও নজরদারি না থাকার অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  রোগীকল্যাণ সমিতির গত বৈঠকেও এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি পুলিসকে দেখতে বলা হয়েছে। মাঝেমধ্যে পুলিস কিছু পদক্ষেপ করে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিষয়টি ফের আলোচনা করে দেখা হবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতো কাজ করতে গিয়ে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে পড়তে হয়। বহিরাগত ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দোকান বসানোর জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও লাভ হয়নি। তাই তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টোটোর অবাধ বিচরণ ও অবৈধভাবে দোকানপাট বসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ