Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো চলবে না শহরে

আগামী ২ এপ্রিল থেকে পুরসভার ‘রেজিস্ট্রেশন’ ছাড়া কোনও টোটো জলপাইগুড়ি শহরে চলতে দেওয়া হবে না।

২ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো চলবে না শহরে
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আগামী ২ এপ্রিল থেকে পুরসভার ‘রেজিস্ট্রেশন’ ছাড়া কোনও টোটো জলপাইগুড়ি শহরে চলতে দেওয়া হবে না। শনিবার পুলিসের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়ে দিল পুর কর্তৃপক্ষ। শহরের যানজট রুখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে তাদের তরফে। যদিও গতবার দুর্গাপুজোর আগে শহরে টোটো নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয় পুরসভা। কিন্তু বাধার মুখে ভেস্তে যায় পরিকল্পনা। ফলে এবারও শেষপর্যন্ত টোটো নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ সফল হয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, টোটো নিয়ন্ত্রণের সঙ্গেই ২ এপ্রিল থেকে জলপাইগুড়ি শহরে চালু হবে পেইড পার্কিং। প্রথমে শহরের কদমতলা থেকে উকিলপাড়া পর্যন্ত রাস্তার ধারে ওই পার্কিং জোন চালু করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে চালু হবে ডিবিসি রোড সহ অন্য রাস্তাতেও। 

Advertisement

পুরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেন, ২৪-৩১ মার্চ পর্যন্ত এনিয়ে আমরা শহরে টোটো নিয়ে মাইকিং করব। পাঁচ হাজারের মতো টোটোকে এখনও পর্যন্ত টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দিয়েছি আমরা। এর বাইরে কোনও টোটো শহরে চলবে না। অনুমোদনহীন টোটো যাতে কোনওভাবে শহরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য পাঁচটি জায়গায় চেকিং পয়েন্ট তৈরি করা হবে। পুরসভার দেওয়া টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর ছাড়া কোনও টোটো শহরে চলতে দেখলেই সেটি আটকানো হবে। প্রয়োজনে জরিমানা করা হবে।
পুর চেয়ারপার্সন বলেন, গ্রামের টোটো নিয়ে আগে যা সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাই বহাল থাকছে। খড়িয়া, অরবিন্দ, পাহাড়পুর ও পাতকাটা পঞ্চায়েত এলাকার টোটো শহরে চলতে পারবে। ওইসব এলাকার টোটোকে আমরা টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দিয়েছি। এর বাইরে যেসব পঞ্চায়েত এলাকা থেকে মানুষজন শহরে আসার জন্য টোটোয় উঠবেন, পুর এলাকায় ঢোকার মুখে তাঁদের টোটো বদল করতে হবে। এজন্য শহরে ঢোকার মুখে পাঁচটি জায়গায় টোটো স্ট্যান্ডও করে দিচ্ছি আমরা। শহর এলাকার টোটো যেমন নির্ধারিত চারটি পঞ্চায়েত এলাকা ছাড়া অন্য কোনও পঞ্চায়েতে যাত্রী নিয়ে যেতে পারবে না, তেমনই ওইসব পঞ্চায়েতের টোটোও শহরে যাত্রী নিয়ে আসতে পারবে না।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, মালদহ, শিলিগুড়ি কিংবা বর্ধমান শহরে যেভাবে টোটো সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে, আমরাও সেই পথে হেঁটে যানজট কমানোর চেষ্টা করছি। টোটোর রুট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। টোটোয় শাটল চালু হবে।
আইএনটিটিইউসির জলপাইগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্র বলেন, আমরাও চাই শহরের যানজট নিরসন হোক। কিন্তু শহর ও গ্রামের টোটো ভাগ করতে গেলে অস্থিরতা বাড়বে। এদিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরসভা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। আমাদের প্রশ্ন, গ্রাম থেকে যাঁরা টোটোতে রোগী নিয়ে আসবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে। মাঝপথে রোগী নামিয়ে টোটো বদল করা হবে? আমাদের মনে হয়, ওয়ানওয়ে সিস্টেম চালু করলে টোটো সমস্যার সমাধান হতো।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পুলিসের ডিএসপি অরিন্দম পালচৌধুরী, জলপাইগুড়ি সদর ট্রাফিক আইসি অমিতাভ দাস, জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ