সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খানাখন্দে ভরারাস্তা। টানা বৃষ্টিতে তা মরণকূপে পরিণত হয়েছে। তার উপর দিয়েই প্রতিদিন ছুটছে হাজার হাজার টোটো। কালো ধোঁয়া উড়িয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিষিদ্ধ ভ্যানো (ইঞ্জিন ট্রলি)। দূষণ আর যানজটের সঙ্গেই প্রতি মুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি! রাজ্যে পালাবদলের পরও মেদিনীপুর আর খড়্গপুর শহরের চিত্রটা বদলায়নি একটুও। বরং লেখক এসওয়াজেদ আলির ভাষায়, সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে, তার পরিবর্তন হয়নি। দুই শহরের ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন আর জনপ্রতিনিধিরা কেবল আশ্বাসই দিচ্ছেন। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এদিকে, পুজোও দোরগোড়ায়। শহরবাসীর দাবি, অবিলম্বে হাল ফেরানো হোক রাস্তার। বন্ধ করা হোক অবৈধ টোটো আর নিষিদ্ধ ভ্যানো। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের আগেই তাঁরা পরিবর্তনদেখতে চান!
বেহাল রাস্তা আর টোটোযন্ত্রণা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের সচেতন নাগরিকরা। মেদিনীপুরের শহরের বাসিন্দা সুব্রত দাস, অর্পিতা সান্যালরা বলেন, এই মুহূর্তে শহরের একটি রাস্তাও ঠিকঠাক নেই। টোটোর জটে আটকে মেদিনীপুরের দমবন্ধ অবস্থা। ভেবেছিলাম রাজ্যে পালাবদলের পর অবৈধ টোটো বন্ধ হবে। তা তো হলই না। উল্টে নিষিদ্ধ ভ্যানোও চলছে। মেদিনীপুরের সমাজকর্মী ও শিক্ষক সুদীপকুমার খাঁড়া বলেন, ‘মেদিনীপুর শহরের নতুনবাজার থেকে মহতাবপুর পর্যন্ত রাজ্য সড়কের করুণ দশা। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার আমার চোখের সামনে একটি টোটো উল্টে গেল।’ ব্যবসায়ী পূর্ণচন্দ্র দাস বলেন, ‘বুধবার দুপুরে জগন্নাথমন্দির এলাকায় লোহার রড ভর্তি ইঞ্জিন ট্রলি বা ভ্যানো উল্টে যায়। এই যান অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ একই অভিযোগ খড়্গপুর শহরের বাসিন্দা অভিরূপ মাইতি, সুমনা দাস, কে শ্রীনিবাস রাও প্রমুখের। তাঁরা বলেন, মেদিনীপুর-খড়্গপুর গুরুত্বপূর্ণ ওটি রোডেও দাপিয়ে চলছে নিষিদ্ধ ভ্যানো বা ইঞ্জিন ট্রলি। আর টোটোর দাপাদাপিতো আছেই।’
পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে পুরসভা ও প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছে। খড়্গপুরে দ্রুত কাজ শুরুর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। তবে, অবৈধ টোটো আর নিষিদ্ধ ভ্যানো বন্ধে প্রশাসনের দায়-ঠেলাঠেলির পালা চলছে। পুজোর আগে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে, তা নিয়ে পুরসভা, পুলিশ আর পরিবহণ দপ্তর একে অপরের দিকেই তাকিয়ে আছে। জেলা পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক (আরটিও) সন্দীপ সাহা বলেন, ‘অবৈধ টোটো বন্ধে আমরা তৎপর। পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় পুজোর আগে আবারও অভিযান চালানো হবে। আর মোটর ভেহিকল আইনে ভ্যানোর কোনো স্থানই নেই। জানি না শহরের বুকে তা কীভাবে চলছে!’ তাঁর মতে, ‘শহরকে যানজটমুক্ত করতে হলে সব পক্ষেরই সহযোগিতা ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।’ জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘অবৈধ টোটো ও নিষিদ্ধ ভ্যানো বন্ধে আমরা উদ্যোগী হব। প্রয়োজনে আমরা সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করব।’