Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেদারনাথ যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে ধৃত টোটো চুরির পান্ডা, নদীয়া থেকে গ্রেপ্তার রিসিভার ‘বিজেপি নেতা’

কেদারনাথ দর্শনে যাওয়ার আগে হাওড়া স্টেশন থেকে ধরা পড়ল টোটো চুরির মূল পান্ডা।

কেদারনাথ যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে ধৃত টোটো চুরির পান্ডা, নদীয়া থেকে গ্রেপ্তার রিসিভার ‘বিজেপি নেতা’
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: হাত সাফাইয়ে ওস্তাদ, আবার ধর্মেও মতি ছিল দুষ্কৃতীর। কেদারনাথ দর্শনে যাওয়ার আগে হাওড়া স্টেশন থেকে ধরা পড়ল টোটো চুরির মূল পান্ডা। বারুইপুরে একের পর এক টোটো চুরির ঘটনায় জড়িত সে। ধৃতের নাম চন্দন সরকার। বাড়ি পূর্ব বর্ধমান। বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত নদীয়ার এক ব্যক্তি ছিল তার শাগরেদ। তার বাড়ি থেকে টোটো উদ্ধার হয়েছে।   

Advertisement

বিশেষ সূত্রে বারুইপুর পুলিস জানতে পারে, পরিবার নিয়ে কেদারনাথ দর্শনের উদ্দেশ্যে হাওড়া স্টেশনে আসছে চন্দন। তাকে ধরতে পুলিসকর্মীরা চা বিক্রেতা, ফেরিওয়ালা সেজে ওত পেতেছিল স্টেশনে। কুম্ভ এক্সপ্রেসে চাপার আগে গ্রেপ্তার করা হয় চন্দনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও এক সদস্য, নদীয়ার চাকদহের সিলিন্দায় এক ব্যক্তির সন্ধান পায় পুলিস। নাম রামপদ মণ্ডল। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রামপদ এলাকার বিজেপি নেতা বলে পরিচিত। সে ঩ছিল রিসিভার। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিস উদ্ধার করেছে চুরি যাওয়া সাতটি টোটো। 
মঙ্গলবার বারুইপুর এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন বলেন, বারুইপুর থানা এলাকায় টোটো চুরি বাড়ছিল। এক মাসে ১২টি টোটো চুরির অভিযোগ দায়ের হয়। ১৫ আগস্ট বারুইপুর থানার টোটো চুরির অভিযোগ দায়ের করেন অজিত বিশ্বাস। আই সি সৌম্যজিৎ রায়ের নির্দেশে এস আই রনি সরকারের নেতৃত্বে তদন্ত টিম গঠিত হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্ত চন্দনের হদিশ পায় পুলিস। খবর আসে, চন্দন পরিবার নিয়ে হাওড়া স্টেশনে আসছে। এরপরেই তদন্তকারী টিম চলে যায় হাওড়া স্টেশনে। সোমবার দুপুর ১টায় অভিযুক্ত কে ধরে পুলিস। 
কীভাবে অপারেশন চালাত চন্দন? তদন্তকারী অফিসার বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে ঘুরে বেড়াত সে। বারুইপুরেও তার এক সহযোগী ছিল। ওই সহযোগীর সাহায্যে কোনও ফাঁকা জায়গায় টোটো দাঁড়িয়ে থাকলে তা নিয়ে নিমেষে গায়েব হয়ে যেত চন্দন। তার কাছে চার্জারও রাখা থাকত। চন্দন চুরি করে টোটো পৌঁছে দিত রামপদর কাছে। তার বাড়ি চাকদহ ব্লকের সিলিন্দা-১ পঞ্চায়েতের মাঠপাড়ায়। অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২০ সাল নাগাদ বিজেপি থেকে তাকে শোকজ করার পর বহিষ্কার করা হয়। সে ১০ নম্বর পিএস এর শক্তি প্রমুখ ছিল। এই বিষয়ে স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি পলাশ সাহা বলেন, ‘রামপদকে অনেক আগেই দল বহিষ্কার করেছে। অসামাজিক কাজের অভিযোগ থাকায় দল সেই সময় এই সিদ্ধান্ত নেয়।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ