নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গভীর রাতে এক টোটো চালককে ডেকে নৃশংসভাবে খুন করল ১৬ বছরের দুই নাবালক। মাথায় ভারীবস্তু দিয়ে আঘাত করার পর ছুরি দিয়ে কাটা হয়েছে গলার নলি। এমনকী, টোটো চালকের যৌনাঙ্গেও মিলেছে ছুরির আঘাত! রবিবার গভীর রাতে নিউটাউনের আকাঙ্খা মোড় সংলগ্ন নিমবনানী পার্কের এই ঘটনায় শোরগোল ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, দুই নাবালকের মধ্যে একজন প্রেমিক রয়েছে। তার প্রেমিকার দিকে ‘কু-নজর’ দিয়েছিল ওই টোটো চালক। এমনকী, প্রেমিকার মায়ের সঙ্গেও নাকি ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল! সেই আক্রোশেই এই খুন। বিধাননগর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নাবালককে আটক করা হয়েছে। তারা খুনের কথা স্বীকারও করেছে।
পুলিস জানিয়েছে, মৃত টোটো চালকের নাম সুশান্ত ঘোষ (৪৩)। ঘটনাস্থলের অদূরে রাজারহাটের রেকজোয়ানি এলাকায় তাঁর বাড়ি। রবিবার রাত১২টা নাগাদ ইকোপার্ক থানার কাছে খবর আসে, নিমবনানী পার্কের কাছে স্ট্রিট নম্বর-৫২৯’এ একজন টোটো চালক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস প্রথমে এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জেরা করে। ওই মহিলার সঙ্গে সুশান্তের অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তপর্বে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস দু’জন নাবালককে চিহ্নিত করে। তারা ওইদিন রাতে সুশান্ত ঘোষের টোটোয় চেপেছিল। রবিবার তাদের দু’জনকে আটক করা হয়। জেরায় পুলিস জানতে পারে, ওই দম্পতির মেয়ের সঙ্গে ওই দুই নাবালকের মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ওই নাবালক জানিয়েছে, সুশান্ত ঘোষ নাকি তার প্রেমিকার দিকেও কু-নজর দিয়েছিল। প্রেমিকার মায়ের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল। তাই সে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সে খুনের পরিকল্পনা করে। শনিবার তারা সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছিল। রবিবার রাতে ওই নাবালক টোটো ভাড়া নেওয়ার জন্য তাকে ফোন করে ডাকে।
প্রথমে তারা সুশান্তের টোটোয় উঠে। তারপরই অতর্কিতে হামলা চালায়। খুন করে রাস্তার ধারেই মৃতদেহ ফেলে দু’জনে চম্পট দেয়। বিধাননগর কমিশনারেট জানিয়েছে, যে দম্পতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খুনের অপরাধ স্বীকার করায় দুই নাবালককে আটক করা হয়েছে। মৃত সুশান্ত ঘোষের বাবা সুধীর ঘোষের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে বিএনএসের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, ধৃতরা সত্যি বলছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।