রায়পুর: শ্রেয়স আয়ারের চোট সুযোগ এনে দিয়েছিল। কিন্তু রাঁচিতে তা কাজে লাগাতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছিল, আদ্যন্ত ওপেনারকে চার নম্বরে পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে। বুধবার রায়পুরে সেই একই পজিশনে নেমে কোচের আস্থার মর্যাদা রাখলেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। একদিনের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি স্মরণীয় হয়ে থাকল বিরাট কোহলির সঙ্গে ১৯৫ রানের অনবদ্য পার্টনারশিপে। আর সেটাই তৃপ্তিতে ভরিয়ে দিচ্ছে তাঁকে। ঋতুর কথায়, ‘বিরাটের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের স্বপ্ন দেখতাম। তা পূর্ণ হল। দুর্দান্ত পার্টনারশিপ হল। কীভাবে ফিল্ডিংয়ের ফাঁকফোকর কাজে লাগাতে হবে, বোলার কোন লেংথে বল করতে পারে, তার মোকাবিলায় টেকনিকে কী বদল আনা দরকার, কেমনভাবেই বা ডট বলের সংখ্যা কমাব— সারাক্ষণ গাইড করেছে ও। দারুণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হল। আমরা প্রত্যেক পাঁচ ওভারের টার্গেট সামনে রেখে এগচ্ছিলাম।’
সেঞ্চুরির পরই আউট হন ঋতুরাজ। ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ তোলেন তিনি। তা নিয়ে আপশোস যাচ্ছে না ডানহাতি ব্যাটারের। আসলে ৮৩ বলে ১০৫ রানেই থেমে থাকতে চাননি তিনি। ২৮ বছর বয়সি নিজের ইনিংস নিয়ে বলেছেন, ‘রাঁচিতে রান না পেয়ে খুব হতাশ হয়েছিলাম। ওই কন্ডিশনে বড় রান পাওয়ার ব্যাপারে বিশ্বাস ছিল। উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ যে, রায়পুরে রান এসেছে। ১১তম ওভারে ক্রিজে গিয়েছিলাম। তাড়াহুড়ো করতে চাইনি। পরিস্থিতি অনুসারে খেলাই ছিল লক্ষ্য। খুচরো রানে জোর দিয়েছিলাম। ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত পিচে অসমান বাউন্স ছিল। তারপর থেকে ব্যাটিং সহজ হয়ে ওঠে। সেটাই কাজে লাগিয়েছি।’
ম্যাচ শেষে ঋতুরাজকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন অধিনায়ক কেএল রাহুল। বিরাটের জন্যও থাকল মুগ্ধতা। তবে সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল হারের হতাশা। ভারত অধিনায়কের আক্ষেপ, ‘টস হারটা বড় ভূমিকা পালন করল। তাছাড়া ব্যাট হাতে আমরা আরও ২০-২৫ রান করতে পারলে সুবিধা হত। পাশাপাশি বোলিং আমাদের ভালো হয়নি। ফিল্ডিংয়েও রান গলিয়েছি। তবে এত শিশিরের মোকাবিলা করা সহজ ছিল না।’ পাশাপাশি রাহুলের সংযোজন, ‘বিরাট-ঋতুরাজের পার্টনারশিপ দেখার মতো ছিল। আমি ব্যাটিং অর্ডার এগিয়ে নামি পাঁচ নম্বরে।’