নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় ডিএসও সমর্থক দুই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে থানার মধ্যে মারধর করা হয়। ওই অভিযোগের তদন্তে আইজি মুরলীধর শর্মাকে নিয়োগ করল আদালত। যদিও থানার মধ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের যাবতীয় অভিযোগই অস্বীকার করেছে রাজ্য। এমনকী, মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) দাবি করেন, ওই দুই ছাত্রীকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া থেকে ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত পুরো সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ রাজ্যের কাছে রয়েছে। মূলত সেসব খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছতেই মুরলীধর শর্মাকে নিয়োগ করেছে আদালত।
বিচারপতির নির্দেশ, ফুটেজ যাচাইসহ পুলিসের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্টও দেবেন মুরলীধর। অভিযুক্ত পুলিস অফিসারকেও হলফনামা দিতে হবে। মেদিনীপুর কলেজে আন্দোলনকারীদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় সুচরিতা দাস, সুশ্রীতা সোরেনেদের পক্ষে এদিন সওয়াল করেন আইনজীবী শামিম আহমেদ এবং জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। শামিমের দাবি, এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রীদের ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে। থানায় অত্যাচার করা হয়েছে তাঁদের উপর। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানান, জয়ন্তনারায়ণ।
বিচারপতি বলেন, ‘এফআইআর হবে কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধান প্রয়োজন। পুলিসের মনোবলের বিষয়টিও এখানে যুক্ত।’ এজি কিশোর দত্ত বলেন, ‘সিসিটিভিতে সব রেকর্ড আছে।’ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি বলেন, ‘রাজ্যের সমস্ত দাবি তারা হলফনামা আকারে জমা দিক।’ একইসঙ্গে অভিযোগকারিণীদের মধ্যে একজন যে তফসিলি উপজাতিভুক্ত সে-কথাও মনে করায় আদালত। তাই অভিযুক্ত অফিসারকে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে হবে। এমনকী, প্রয়োজনে মেডিক্যাল বোর্ডে গঠনের কথাও জানায় আদালত। এদিকে, যাদবপুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ফোন করেন লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তা। ওইদিন ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তা জানতে চাওয়া হয়। ফোনেই শিক্ষামন্ত্রীর বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিস।
অন্যদিকে, যাদবপুরের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রকে তাঁর বিভাগে প্রবেশের সময় পড়ুয়াদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা এবং তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রাক্তন ও বর্তমান উপাচার্যরা। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাঁদের আবেদন, পড়ুয়ারা এই কাণ্ডের অভিঘাত বোঝেন। অতএব, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না-হয়। আইনি প্রক্রিয়া চললে তাঁরা কিন্তু ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে পারেন। ক্যাম্পাসে নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলেছেন ওমপ্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না-থাকার জন্য তিনি রাজ্যপালকেই দায়ী করেন।