Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

সেরা পাঁচ শাক

পালং শাকের কেম্পফেরল ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগ প্রতিরোধ করে, জিয়াজ্যান্থিন ও লিউটিন চোখ ভালো রাখে আর কুয়েরসেটিন সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। পালংশাক হার্ট হেলদি।

সেরা পাঁচ শাক
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

পালং শাক

Advertisement

শীতকালীন শাকের মধ্যে একনম্বরে আছে পালং শাক। সামান্য কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং প্রচুর ফাইবারের সঙ্গে এই শাকে আছে আয়রন (রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে অ্যানিমিয়া দূর করে), ক্যালশিয়াম (হাড় মজবুত রাখে), ভিটামিন এ (দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে), ভিটামিন সি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়ায়), ভিটামিন কে (অতিরিক্ত রক্তপাত প্রতিরোধ করে), ফোলিক অ্যাসিড (দেহের সুষম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। পালং শাকের কেম্পফেরল ক্যান্সার ও অন্যান্য জটিল রোগ প্রতিরোধ করে, জিয়াজ্যান্থিন ও লিউটিন চোখ ভালো রাখে আর কুয়েরসেটিন সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। পালংশাক হার্ট হেলদি। কারণ এতে আছে প্রচুর মাত্রায় নাইট্রেট। পালংশাক শিয়মিত খেলে ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে। কারণ এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। পালং-এ আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এ এবং সি। এর ফলে দেহে ইমিউনিটি বাড়ে। গর্ভাবস্থায় পালং শাক খেলে ভ্রূণের বৃদ্ধি ভালো হয়। এবং এই  শাকে প্রচুর প্রচুর ফোলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন কে থাকায় গর্ভাবস্থায় নিউরাল টিউব ডিফেক্ট-এর সম্ভাবনা দূর হয়।

মেথি শাক

মেথি শাক মেটাবলিজম বাড়িয়ে বেশি এনার্জি তৈরি করে। শীতকালে শাক হিসেবেও অন্যান্য খাবারের উপকরণ হিসেবে অথবা অন্যান্য খাবারের উপকরণ হিসেবে মেথি শাক খাওয়া যায়। মেথি শাক ডায়াবেটিস রোগে খুবই উপকারী। কারণ কোষের সুগার আপটেক বাড়ে, বাড়ে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি। এর ফলে রক্তে কমে শর্করার মাত্রা। আবার ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এই শাক ওজন কমায়। মেথি শাক ইমিউনিটি বাড়ায়। কারণ এই শাকে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম আছে। তাই হাড় মজবুত রাখে। জয়েন্ট পেইন কমায়। মেথি শাকের রস  ক্র্যাকড হিলের সমস্যা দূর করে। মেথি পাতা তিল তেলে ফুটিয়ে পায়ের গোড়ালিতে লাগাতে পারেন। মেথি শাক কোলেস্টেরল কমায়, হার্ট ভালো রাখে ও হজম শক্তি বাড়ায়।

লাল শাক (লাল নটে শাক)

সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর এই শাক ইমিউনিটি বাড়ায়। হার্ট ভালো রাখে, চোখে ও হাড়ের জন্য উপকারী। শীতকালীন ব্যথা বেদনা কমায়, অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। এর বিটা ক্যারোটিন, জিয়াজ্যান্থিন, লিউটিন প্রভৃতি যৌগ যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এর মধ্যে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে শীতকালীন অসুখবিসুখ, জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এই শাক অ্যান্টি এজিং। প্রচুর আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও কে থাকায় অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে।

বেতো শাক বা বথুয়া শাক

এই শাক অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস-এ ভরপুর। ডায়াবেটিস ও কনস্টিপেশন কমাতে নিয়মিত খেতে পারেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এ এবং সি থাকায় জটিল রোগ প্রতিরোধ করে,  শীতকালীন জীবাণু সংক্রমণ দূর করে। এই শাকে প্রচুর আয়রন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন, কে ও ফাইবার থাকায় অ্যানিমিয়া দূর করে। হজমের সমস্যা কমায়। এমনকী আর্থ্রাইটিসেও উপকারী এই শাক। ভালো রাখে চুল, কমায় অ্যাকনে, বজায় রাখে ত্বকের লাবণ্য।

সরষে শাক

এই শাকের ফাইবার, ফোলেট, পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে ব্লাড প্রেশার। কমায় কোলেস্টেরল। ভিটামিন এ, লিউটিন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখ ভালো রাখে। প্রতিরোধ করে নানা রোগ। হার্টের রোগ, অ্যাজমাও প্রতিরোধ করে। নানা ধরনের ইনফ্ল্যামেশন কমাতে কার্যকরী। একাধিক ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকরী।

ডাঃ লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ