Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বচ্ছ ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছিল তুফান, লুকিয়ে চালাত বোমা তৈরির কাজ

স্বচ্ছ ইমেজ তৈরির চেষ্টা করছিল তুফান, লুকিয়ে চালাত বোমা তৈরির কাজ
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে এগিয়ে আসত তুফান৷ তাঁকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হাসপাতালে নিয়ে যেত৷ সুস্থ হয়ে গেলে ফিরিয়েও আনত সে৷ এইসব কাজ করে তুফান নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে চাইছিল। বোমা বিস্ফোরণ হতেই কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামের বিস্ফোরণ কাণ্ডের নায়ক তুফানের চৌধুরীর পর্দাফাঁস হয়৷ গোটা গ্রাম রাতারাতি ‘সমাজসেবী’ হয়ে ওঠা তুফানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। 

Advertisement

পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তুফান এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। রবিবার কাটোয়া বিস্ফোরণকাণ্ডে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতের নাম আবুতাহার শেখ, আবুল কায়েম শেখ, নজরুল মোল্লা, জুমাত শেখ ও জমির শেখ৷ এদের মধ্যে আবুতাহার ও আবুল কায়েম দুই ভাই৷ এদেরই পরিত্যক্ত বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে৷ আর নজরুল ও জুমাতের বাড়ি রাজুয়া গ্রামেই। কেতুগ্রামের মাসুন্দি গ্রামের বাসিন্দা জমির শেখ। এদিন প্রত্যেকেই কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হয়৷ বিচারক জমির শেখের ৫ দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। 
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে রাজুয়া গ্রামের বাসিন্দা তুফান শেখ বীরভূমের নানুর  থেকে বোমা বাঁধার জন্য কয়েকজন দুষ্কৃতী নিয়ে এসেছিল৷ মৃত মিন্টু শেখের পরিত্যক্ত বাড়িতে বসেই বোমা বাঁধা হচ্ছিল৷ সেখানেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ৷ ঘটনায় মৃত্যু হয় নানুরের যুবক বরকত কারিকরের৷ আর জখম হয় তুফান শেখ৷ তার আরও দুই সহযোগী ইব্রাহিম শেখ ও সফিক মণ্ডল পলাতক৷ 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৫ নম্বর তুফান চৌধুরী ও তার ঘনিষ্ট বন্ধু ইব্রাহিম শেখ দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আউশগ্রামের শিববাটি এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল৷ মঙ্গলকোটের রঘুনাথপুর এলাকায় এক লটারি ব্যবসায়ীর কয়েক লক্ষ টাকার চেক ছিনতাই করে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মামলায় জেল খাটছিল তুফান৷ দশ দিন আগে জেল থেকে বেরিয়েই সাধু সাজার চেষ্টায় সমাজসেবীর ভেক ধরে৷ এসবের আড়ালেই চালিয়ে যাচ্ছিল বোমা বাঁধা। কেতুগ্রামের মাসুন্দি গ্রামের যুবক জমির শেখের মাধ্যমে নানুরের বরকতের সন্ধান পায় তুফান৷ টাকা পেলেই বরকত নিমেষে বোমা বাঁধতে পারত। আর নজরুল ও জুমাত এলাকায় পাহারা দিচ্ছিল৷ আবুতাহার শেখ ও আবুল কায়েম শেখ দুই ভাই তুফানের সঙ্গে তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রতিদিন আড্ডা বসাত৷ বোমা বাঁধার জন্য কোশিগ্রামের একটি হার্ডওয়্যার দোকান থেকে সুতলি দড়ি কিনে এনেছিল তুফান ও বরকত৷ সেই দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে৷ সেটা পুলিস উদ্ধার করেছে৷ আর বরকত যে মোটর বাইকে করে নানুর থেকে রাজুয়া এসেছিল সেটাও পুলিস উদ্ধার করেছে৷ এছাড়াও পরিত্যক্ত বাড়িতে পোড়া মোবিল পাওয়া গিয়েছে৷ কারণ শক্তিশালী বোমা বাঁধতে গেলে পোড়া মোবিলের দরকার হয়৷ 
তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, নিশ্চই শক্তিশালী বোমের মশলা ছিল, যেটাকে লাল ও সাদা পাউডার বলা হয়। তা না হলে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটা কীভাবে হয়৷ যদিও আজ সোমবার বেলা দশটা নাগাদ ফরেন্সিক তদন্তকারী দল আসবে৷ তুফানের মোবাইল উদ্ধার করেছে৷ তার সিডিআর পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, কার কাছ থেকে দুষ্কৃতীরা বোমা বাঁধার বরাত পেয়েছিল৷ কী কারণে বোমা বাঁধছিল। বালির ঘাট নিয়ে কোনও সমস্যা? নাকি কাটোয়ার বিধায়কের করা অভিযোগ মতো জঙ্গল শেখের কোনও যোগ রয়েছে? গ্রামের বাসিন্দা গোলাপি বিবি, পূর্ণিমা খাতুন বলেন, তুফান আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াত৷ তার পিছনে ওর যে এসব গুণ ছিল তা এখন বুঝতে পারছি৷ এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি জানিয়েছেন, সবদিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ