


বুয়েনস আইরেস: সর্বদা বিতর্ক এড়িয়ে চলেন। কোনওরকম কথার লড়াইয়ে খুব একটা জড়াতে দেখা যায় না। ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের মতোই থাকতে পছন্দ করেন লায়োনেল মেসি। তাই নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনায় পরিবর্তন ঘটলেই বেশ সমস্যায় পড়েন তিনি। বুধবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন বিশ্বকাপ জয়ী মহতারকা। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা অদ্ভুত। আসলে আমি একাকীত্ব পছন্দ করি। নিজের মতোই থাকি। এমনকী বাড়িতে তিন ছেলে খুব বেশি হট্টগোল করলে তা আমায় ক্লান্ত করে তোলে। শুধু তাই নয়, আমি সবসময় সবকিছু পরিকল্পনামাফিক করতে ভালোবাসি। তাতে হঠাৎ কোনও পরিবর্তন ঘটলে আমি খেই হারিয়ে ফেলি। তাই যতটা সম্ভব এমন কোনও পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।’
এদিকে, ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর বেশিরভাগ খেলোয়াড় কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন। ফুটবলের রাজপুত্র ডিয়েগো মারাদোনাও সেই পথে হেঁটেছিলেন। তবে মেসি কখনওই কোচিংয়ে আসতে চান না। বরং তাঁর লক্ষ্য, পিছিয়ে পড়া কোনও এক ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে সবকিছু শুরু করা। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমি কখনও নিজেকে কোচ হিসেবে দেখি না। বরং ম্যানেজার শব্দটা আমার খুব টানে। তবে সুযোগ পেলে অবশ্যই কোনও একটি ক্লাবের মালিক হতে চাই। সবকিছু শূন্য থেকে শুরু করব। প্রতিভা তুলে আনার মঞ্চ হিসেবে তা ব্যবহৃত হবে।’ উল্লেখ্য, লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইতিমধ্যেই উরুগুয়ের একটি ক্লাব কিনেছেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। একইসঙ্গে দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারে ব্যর্থতা নিয়েও খোলখুলি কথা বলেছেন লিও। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের পর ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলে মাঠে ফেরেন। এই প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘টানা তিনটি ফাইনালে হার মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। অন্তর থেকে নিজেকে মৃত বলে মনে হয়েছিল। তাই আবেগের বশে ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম। তবে খুব বেশি দিন নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি।’
আসন্ন বিশ্বকাপেই শেষবারের জন্য দেখা যাবে আর্জেন্তাইন মহাতারকাকে। তারপরই পাকাপাকিভাবে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানবেন তিনি। তবে ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যেতে চান লিও।