রোহন রায়: বিশ্বকর্মা পুজোর দিনই পিকলুর ঘুড়ি কেটে গেল। মানে হৃদয় ভাঙল আর কি!
অবশ্য সেভাবে দেখতে গেলে, তিতির পিকলুর দ্বিতীয় হার্টব্রেক। পিকলুর প্রথম হার্টব্রেক ছিল হাবুলকাকু। মানে ঠিক হাবুলকাকু নয়, হাবুলকাকুর সসের কারখানা। টম্যাটো সসের কারখানার বাইরে কেন টেম্পোবোঝাই কুমড়ো এসে দাঁড়ায়, সেই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে এগারো বছর বয়সি পিকলু জীবনে প্রথম বেইমানির স্বাদ টের পেয়েছিল। তা-ও আবার টাটকা কুমড়ো নয়— একটু লালচে, শুঁটোনো, বুড়োটে মেরে যাওয়া সব কুমড়ো। টম্যাটো সস যে আসলে টম্যাটো সস নয়— কুমড়ো সস, পিকলুর সদ্য কৈশোরপ্রাপ্ত হৃদয়ে এই মর্মান্তিক সত্যিটা উল্কার মতো আছড়ে পড়েছিল। অন্তত চার-পাঁচ দিন সময় লেগেছিল এই ট্রমা কাটতে। টম্যাটো সসের মতো এমন চমৎকার জিনিস কি না কুমড়োর মতো নিঘিন্নে সবজি দিয়ে তৈরি? ছ্যাঃ!
কিন্তু বাড়ির লোকজন বা বন্ধুবান্ধব কেউই পিকলুর এই দুঃখের সমব্যথী হয়নি। এত বড়ো প্রবঞ্চনায় যেন দুনিয়ার কারওরই কিছুমাত্র আসে-যায় না। ছোটোবেলার সেই খারাপ লাগা এখন আর নেই। কিন্তু সেই থেকে যে ট্রাস্ট ইস্যু ধরে গেল, তা আর পিছন ছাড়ল না। সেই থেকে পিকলু শুধু যে টম্যাটো সস খাওয়া ছেড়ে দিল তা-ই নয়, ওই কুচো বয়সেই সেই মানবতার ওপর থেকে তার বিশ্বাস পাকাপাকিভাবে উঠে গেল। ছোটো থেকেই সে সবাইকে সন্দেহ করে। কারও টুঁ মাত্র এদিক-ওদিক আচরণ সহ্য বা ক্ষমা কোনোটাই করতে পারে না। এমন ছেলের সঙ্গে কে ভাব করবে? ফলে পাড়া হোক বা স্কুল-কলেজ, কোনোদিনই পিকলুর বিশেষ বন্ধুবান্ধব জোটেনি। এই যে তেইশটা বছর ছেলেটার মোটের ওপর একাবোকাই কেটে গেল, তার পিছনে প্রধান কারণ তো হাবুলকাকুর ওই সসের কারখানাই। আর সবচেয়ে বিচ্ছিরি ব্যাপারখানা হচ্ছে, সেই হাবুলকাকুর মেয়ের প্রেমেই কি না শেষে পিকলু পা পিছলে একেবারে আলুরদম হল! কোনো মানে হয়?
যা-ই হোক, ভালো যখন বেসেই ফেলেছে তখন বিষয়টার একটা হিল্লে করার চেষ্টা করতেই হয়। কিন্তু পিকলুর মনে যতই কুকুক্কুর থাকুক, তিতির পিকলুকে পাত্তা দেবে কেন? সে ডাকসাইটে সুন্দরী। প্রেসিডেন্সি কলেজের মেধাবী ছাত্রী। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়তে যাবে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সে। পাশাপাশি অসামান্য কত্থকও নাচে। হিল্লিদিল্লি নাচের প্রোগ্রাম করতে যায়। এদিকে পিকলু টেনেটুনে সেকেন্ড ক্লাসে বাংলা অনার্স পাস করে এখন চার-পাঁচটা টিউশন করে হাতখরচা চালায়। প্রায় কাঠবেকারই বলা যায়। অবশ্য পিকলু টুকটাক লেখালিখিও করে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা, গল্প বেরয়। তা সেটাকে তো আর ঠিক অ্যাচিভমেন্ট বলে ধরা যায় না। ওসব হচ্ছে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। মোদ্দা কথা, তিতিরের পাশে পিকলু হচ্ছে টি-রেক্সের পাশে টিকটিকি, জলভরার পাশে পাড়ার মুদিখানার আধগলা নকুলদানা। তাছাড়া পরিবারের আর্থিক দিকটাও ম্যাটার করে। সসের কারখানাটা হাবুলকাকুর নিতান্তই শখের ব্যাপার। ভদ্রলোকের আসল ব্যবসা পিভিসি পাইপের। ফলাও কারবার। মাসে কম করে চল্লিশ-পঞ্চাশ লাখ টার্নওভার। অমন হাকুশ বড়োলোক ফ্যামিলির মেয়ের দিকে তাকানোটাও পিকলুর মতো ফেকলু ছেলের পক্ষে চরম স্পর্ধার ব্যাপার। ফলে হার্টব্রেক তো হওয়ারই ছিল।
কোনো আশা ছিল না, তবু পিকলু শুরুতেই হাত তুলে দেয়নি। তিতিরের পিছনে অপু আর মিনিকে ফিট করে দিয়েছিল। সমস্ত দুর্ব্যবহার আর খামখেয়ালিপনা সহ্য করে এই দু’টি মাত্র বন্ধুই পিকলুর জীবনে টিকে গেছে। দু’জনেই পাড়ার বন্ধু। কলেজও কমন। অপুর সঙ্গে তো স্কুলটাও কমন। সবেধন নীলমণি দুই বন্ধুকেই পিকলু লাগিয়ে দিয়েছিল তিতিরের খোঁজখবর জোগাড় করার কাজে। তিতির এমনিতে খুব রেখেঢেকে চলে। তার বাইরের রোজকার রুটিন খুঁটিয়ে দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। গভীর রিসার্চ দরকার। পিকলুর স্থির বিশ্বাস, তিতিরের অবশ্যই অ্যাফেয়ার আছে। এরকম ঝাকানাকা মেয়ে সিঙ্গল থাকবে, এমন দুর্দিন এদেশে আসেনি এখনও। একান্তই যদি দেখা যায় কেউ নেই, তখন না হয় একটা ট্রাই নিয়ে দেখা যাবে।
খবর বের করতে মাস গড়িয়ে গেল। অবশেষে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে অপু দুঃসংবাদটা আনল। তিতিরের প্রেমিক আইটি কোম্পানির মস্ত চাকুরে। নাম রণজয় সিংহ। যেমন লম্বাচওড়া মাইনে, তেমনই লম্বাচওড়া তার ফিজিক। ইয়া মাসল। নিবাস গলফ গ্রিন। রণজয়ের মায়ের কাছেই তিতির নাচ শেখে। সেই সূত্রেই আলাপ।
খবরটা পাওয়ার আগে পর্যন্ত পিকলুর মনে একটা জিরো পাওয়ারের বাল্ব টিমটিম করে জ্বলছিল। খবরটা পেতেই দুপ করে তার ফিলামেন্ট উড়ে গেল। অপু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘ওই ফ্যামিলিটাই তোর জন্য গাঁট! ওই বাড়িতে প্রেম করা তোর মোটেই উচিত হয়নি।’
মিনি মুখ বেঁকিয়ে বলল, ‘প্রেম করা মানে? একতরফা প্রেমকে প্রেম করা বলে নাকি? রেজাল্ট তো জানাই ছিল। ফেল নিশ্চিত জেনেও কেউ যদি পরীক্ষায় বসে, কী আর বলা যায় তাকে?’
পিকলু কিছুই বলল না। উদাস মুখে বাদাম চেবাল খানিকক্ষণ। তারপর আচমকা উঠে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল। ক’টা দিন তার আর কোনো পাত্তা পাওয়া গেল না।
দেখতে দেখতে পুজো এসে গেল। পিকলু পুজোয় এমনিই পাড়ার বাইরে বেরয় না। অপু, মিনি আর পাড়ার আরও কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা মেরে কাটায়। কিন্তু এবার তার টিকিরও দেখা মিলল না। ফোন করলে ফোনও তুলছে না। অবশেষে অষ্টমীর রাতে অপু হানা দিল পিকলুর বাড়িতে।
বাড়ির সবাই হোলনাইট ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে গেছে। পিকলু একা অন্ধকার ঘরে শুয়ে শুয়ে ইউটিউবে শাহরুখ খানের সিনেমা দেখছে। সিনেমার নাম ‘ডর’। শাহরুখ সেখানে সাইকো প্রেমিক। ব্লেড দিয়ে নিজের বুক চিরে প্রেমিকার নাম লিখে রাখে। প্রেমিকার বরের পেটে চাকু গুঁজে দেয়। অপু ঘরের আলো জ্বালিয়ে দেখে, পিকলুর চোখ ঘোলাটে। চাহনিতে শাহরুখের মতোই পাগলামি। অপুকে দেখে কেমন খ্যাপাটে গলায় সে বলে, ‘ভাই, আমি এত সহজে হাল ছাড়ব না!’
অপু ঘাবড়ে গেল, ‘মানে? কী করবি?’
‘রণজয়ের ঠিকুজি-কুষ্ঠি জোগাড় করে ব্যাটাকে এমন চমকান চমকাব!’
‘তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল? রণজয়ের ছবি দেখিসনি? ওর কবজিটাই তোর কোমরের সাইজের হবে।’
পিকলুর ঘোলাটে চোখ এবার জ্বলে ওঠে, ‘সব লড়াই গায়ের জোরে জেতার নয়। দেখ না কী করি!’
অপু প্যান্ডেলে গিয়ে গম্ভীর মুখে মিনিকে বলে, ‘অবস্থা একদমই ভালো বুঝছি না। কাকু-কাকিমাকে কি জানানো উচিত?’
মিনি বলল, ‘দরকার নেই। এসব ইনফ্যাচুয়েশন দু’দিন বাদেই কেটে যাবে।’
কিন্তু কাটল না। পিকলু কয়েকদিন লুকিয়ে তিতিরকে ফলো করল। কলেজে, স্টেশনে, শপিং মলে— সর্বত্র। এমনই লুকিয়ে ফলো করল যে, তিতির অচিরেই ব্যাপারটা টের পেয়ে গেল। একদিন পিকলুকে লক্ষ করে কষে একটা ভ্রুকুটিও নিক্ষেপ করে গেল।
সব শুনে মিনি বলল, ‘এবার তুই হাবুলকাকুর হাতে মার খাবি।’
পিকলু খানিকক্ষণ আকাশপাতাল ভাবল। তারপর মিনিকে বলল, ‘আচ্ছা মিনি, তুইও তো একটা মেয়ে।’
মিনি তেরচা চোখে তাকাল, ‘যাক। টের পেলি তাহলে?’
‘ইয়ার্কি মারিস না। একটা মেয়ের পারসপেক্টিভ থেকে বল না, আমার কি বিন্দুমাত্র চান্স আছে?’
অপু ফ্যাক করে হেসে ফেলল।
পিকলু বিরক্ত গলায় বলল, ‘রণজয়টা একটা গাম্বাট। হাতের গুলি ফোলালেই কি দুনিয়া জয় করা যায়?’
অপু বলল, ‘প্রচুর মাল্লু কামায় ভাই। দুনিয়াটা মাল্লুর বশ।’
‘তা কামায়, কিন্তু আসলে তো পাতি আইটি কুলি। কালচারাল সেন্স বলে কিছু আছে?’
‘কিন্তু তিতির তো ওকেই ভালোবাসে।’
‘আমার সন্দেহ, ব্যাপারটা ভালোবাসা না।’
‘ভালোবাসা না? তো কী?’
‘মেয়েটা নাচে। ওর মধ্যে একটা শিল্পী-মন আছে। এরকম মেয়ে ওরকম ছেলেকে পছন্দ করে কী করে?’
মিনি বলল, ‘পিকলু, একটা কমিটেড মেয়েকে এভাবে বিরক্ত করাটা কুরুচির পরিচয়।’
‘বিরক্ত কোথায় করছি? আমি নিজেকে ওর সামনে একটু ঠিকঠাক করে প্রেজেন্ট করতে চাইছি। আমার মনে হয়, আমার কবিতাগুলো ওকে পড়ানো উচিত। তাহলে ও আমায় অনেকটা বুঝতে পারবে।’
‘প্লিজ, তোর কবিতা পড়াতে যাস না। এখন সামান্যই বিরক্ত হয়েছে। কবিতা পড়লে ফুল খেপচুরিয়াস হয়ে যাবে।’
‘কেন, তুই তো আমার কবিতা পড়েছিস। তুই তো বলিস আমি হেবি লিখি।’ পিকলু আত্মপ্রসাদের সুরে বলল, ‘চান্স নিয়ে তো দেখতেই হবে। কবিতা পড়ে হয়তো তিতির আমাকে ভালোবেসে ফেলবে।’
মিনি রুক্ষ স্বরে বলল, ‘মেয়েদের তুই কী ভাবিস বল তো?’
‘কী মুশকিল! সেইজন্যই তো তোর থেকে জানতে চাইছিলাম, একটা মেয়ে হিসেবে আমার বিষয়ে তোর কী মতামত?’
উত্তর না দিয়ে মিনি ঝড়ের গতিতে উঠে চলে গেল।
পিকলু বলল, ‘যাব্বাবা! মেয়েটা রেগে গেল কেন?’
সপ্তাহখানেক পর একদিন সন্ধেবেলা তপনদার চায়ের দোকানে বসে অপু পিকলুকে বলল, ‘মিনি বাইরে চলে যাচ্ছে, জানিস?’
‘কোথায়? কেন?’
‘ওড়িশায়। চাকরি পেয়েছে।’
‘সত্যি?’
‘মিথ্যে কেন বলব?’
‘অত দূরে চলে যাবে?’
‘যাবে তো বটেই। এই বাজারে একটা ভালো চাকরি পাওয়া কি মুখের কথা? আর তাছাড়া...।’
‘তাছাড়া?’
অপু কেমন একটা মুখচোখ করে বলল, ‘তুই তো একটা অন্ধ!’ বলেই গটগট করে চলে গেল।
পিকলু হাঁ করে চেয়ে রইল। অপুটাও দিন দিন মিনির মতোই দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে।
রাতে বাড়ি ফিরে মিনিকে হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ করল পিকলু, ‘তুই নাকি চলে যাচ্ছিস?’
ব্লু টিক পড়ল। অর্থাৎ মিনি দেখেছে। কিন্তু কোনো রিপ্লাই এল না।
রাতে শুয়ে শুয়ে পিকলু অপুর কথাটা নিয়ে ভাবল অনেকক্ষণ। কথাটা খুবই রহস্যময়। খেলতে খেলতে পুকুরে পড়ে যাওয়া ফুটবলের মতো। একেকবার মনে হচ্ছে এই বুঝি নাগাল পাওয়া গেল, পরক্ষণেই টুক করে দু-ইঞ্চি দূরে সরে যাচ্ছে। একে তো মিনি চলে যাচ্ছে, তার ওপর অপু একটা অদ্ভুত ধাঁধা চাপিয়ে দিল। ঘুম এল না ভালো করে। নানা উদ্ভট চিন্তায় মনটা উথালপাথাল হতে থাকল। অনেকক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে পিকলু উঠে পড়ল। একটু একটু বাঁও মিলছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এ-ও কি সম্ভব? এ যে অবিশ্বাস্য!
জানলার বাইরে জ্যোৎস্নাতুর রাত্রি। সেদিকে চেয়ে পিকলু বসে রইল ভূতে-পাওয়া মানুষের মতো।
পরদিন হোয়াটসঅ্যাপ করে মিনিকে তপনদার চায়ের দোকানে ডাকল পিকলু।
‘যেতেই হবে?’
‘যেতেই হবে। চাকরিটা খুব দরকার।’
পিকলু গম্ভীর মুখে বলল, ‘কাল রাতে অনেক ভাবলাম, বুঝলি!’
‘কী ভাবলি?’
‘ভাবলাম টম্যাটোর যতই গ্ল্যামার থাক, কুমড়ো ইজ অন্য অ্যানাদার লেভেল।’
মিনির ভুরু কুঁচকে গেল, ‘মানে?’
‘কুমড়োকে আমরা বড্ড তুচ্ছতাচ্ছিল্য করি। অথচ এ-দুনিয়ায় টম্যাটো সসটাও কুমড়ো দিয়ে তৈরি হয়। কী অদ্ভুত নীরব কর্মী বল তো এই কুমড়ো! সবেতে থাকে, অথচ নিজেকে জাহির করে না। নিজের ক্রেডিট অন্যকে দিয়ে দেয়। না না, কুমড়োর কোনো রিপ্লেসমেন্ট হয় না।’
‘কুমড়ো নিয়ে জ্ঞান দিবি বলে এই ভরদুপুরে ডেকে পাঠালি?’
‘না না। আমি আসলে বলতে চাইছি, কত কিছুই ভুল ভাবি আমরা, বল? নিজেকেই ঠিকঠাক চিনে উঠতে পারি না।’
‘ঝেড়ে কাশবি? এই ভয়ানক গরমে দরদর করে ঘামতে ঘামতে তোর ভাট বকা শোনার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।’
বুকের সবটুকু সাহস সঞ্চয় করে পিকলু বলল, ‘টম্যাটো না, আমার আসলে কুমড়োই পছন্দ। বুঝতে পারিনি এতদিন। সরি।’
কুমড়োর সঙ্গে তুলনা করলে কোনো সুস্থ স্বাভাবিক মেয়ের খুশি হওয়ার কথা না। কথাগুলো বলে ফেলেই পিকলুর সেটা মনে হল বটে, কিন্তু তখন তো আর কিছু করার নেই। তির হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। দুরুদুরু বুকে পিকলু গোলাগুলি খাওয়ার জন্য তৈরি হল।
কিন্তু গোলাগুলি চলল না। মিনির কুঁচকে যাওয়া ভুরুদুটো খুব ধীরে ধীরে সোজা হল। চোখে প্রথমে খানিকটা বিস্ময় দেখা দিল। তারপর অবিশ্বাস। অবশেষে ঠোঁটে ফুটে উঠল একফালি হাসি।
সামান্য একফালি হাসি। তাতেই পিকলুর চোখ ধাঁধিয়ে গেল। কী আশ্চর্য! কালীপুজো তো কাল। আজই কারা এত রংমশাল জ্বেলে দিল চরাচর জুড়ে? চোখ বুজে ফেলল পিকলু। বুকের মধ্যে একের পর এক বিস্ফোরণ। ভিতরে আগলে রাখা সমস্ত আতশবাজিতে যেন একসঙ্গে আগুন লেগে গেছে।
তারপর? তারপর আর কী? মিনি ওড়িশার অফিসে ফোন করে জানিয়ে দিল, অনিবার্য কারণবশত সে চাকরিটা নিতে পারছে না। এদিকে পিকলুও হাবুলকাকুকে ক্ষমা করে দিল। মানে হাবুলকাকুকে ঠিক নয়, হাবুলকাকুর সসের কারখানাটাকে।



