রাজা ভট্টাচার্য: ‘সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে এই ডগলাস।’ থমথমে করছে বক্তার গলা, ‘এতদিন যা কিছু ঘটেছে, সেটাও জঘন্য ছিল। কিন্তু এবার এই হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে যা ঘটল, তা সহ্য করা যাচ্ছে না। নিরস্ত্র রাজবন্দিদের উপর এইভাবে...’
গলা ধরে গেল বক্তার। পিছনের সারিতে মাথা নীচু করে বসে থাকা প্রদ্যোত মুখ তুলে তাকাল এতক্ষণে। মেজরের কঠোর নির্বিকার চিত্তের মুখোশ খসে পড়েছে। মাথা ঘুরিয়ে চোখ মুছে নিচ্ছেন তিনি।
‘আমি প্রস্তাব করছি,’ বলছেন অন্য এক মেজর, ‘ডগলাসকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।’
এই দুই মেজরকেই স্বনামে চেনে প্রদ্যোত। বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের প্রত্যেক সদস্যই জানে— এঁদের নাম মেজর সত্য গুপ্ত ও মেজর যতীন দাস। অবশ্য প্রকাশ্যে সেই নাম উচ্চারণ করার প্রশ্নই ওঠে না।
পাস হয়ে গেল প্রস্তাব। ডগলাস যা করেছে, তাতে অন্য কিছুর প্রশ্ন নেই।
‘পেডির হত্যার পর থেকে ইংরেজের পুলিশ খ্যাপা কুকুরের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে আমাদের।’ এবার সেই কথাই বলে চলেছেন সত্য গুপ্ত, ‘যুদ্ধে অন্যায় বলে কিছু নেই, আমিও মানি। আর আমরা তো ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণাই করেছি। তারা আমাদের উপর অত্যাচার করবে— সেটাও স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছি। কিন্তু হিজলিতে যা ঘটে গেল, তা নিছক বর্বরতা।’
আস্তে আস্তে মাথা নাড়ল প্রদ্যোত। এর চাইতে সত্য আর কিছুই হতে পারে না। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে হিজলি জেলে বন্দি বিপ্লবীদের ওপরে সম্পূর্ণ অকারণে গুলি চালিয়ে দিয়েছিল ইংরেজদের পুলিশ। মারা গিয়েছেন সন্তোষকুমার মিত্র ও তারকেশ্বর সেনগুপ্ত। আহত হয়েছেন অসংখ্য বিপ্লবী। আসলে ডগলাসকে মেদিনীপুরে আনাই হয়েছিল এই উদ্দেশ্য নিয়ে। এর আগের ম্যাজিস্ট্রেট পেডিকেও হত্যা করেছিল বিপ্লবীরা। তার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই ডগলাস এসেছে এখানে। তার অত্যাচারে এই কয়েক মাসেই যেন ছারখার হয়ে গিয়েছে মেদিনীপুর। বোধহয় এমন একটা বাড়িও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখান থেকে কাউকে না কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়নি। হিজলির জেলে গুলি চালানোটাও আসলে সেই প্রতিশোধেরই একটা পর্ব।
‘আর এইবার সময় এসেছে এই ডগলাসকে চরম শাস্তি দেওয়ার।’ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে মেজর সত্য গুপ্তের গলা, ‘সেও জেনে যাক— মেদিনীপুর বড়ো কঠিন ঠাঁই। এখানে অন্যায় করলে তার শাস্তি দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে নেমে আসতে হয় না। সেই শাস্তি আমরাই দিয়ে থাকি। আমরা— মেদিনীপুরের মানুষেরা।’
প্রদ্যোত বুঝতে পারল, ওর কান দুটো গরম হয়ে উঠেছে। মুশকিল হল, বড্ড ছোটো ও এখনও। কুড়ি বছর বয়স হয়নি। এই বয়সেই ওকে এরকম কোনো গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু যদি একবার সুযোগ আসে...’
‘সবার আগে দু’জন ভলান্টিয়ার নির্বাচন করতে হবে। আমাদের মধ্যে যদি এমন কেউ...’
এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে ধড়মড় করে উঠে দাঁড়াল প্রদ্যোত। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারল, ডানপাশের একেবারে কোনায় বসে থাকা প্রভাংশুও উঠে দাঁড়িয়েছে এক লাফে। প্রভাংশুশেখর পাল। ওর বয়স তো প্রদ্যোতের মতোই! তাহলে বোধহয় আশা আছে।
এবার অবশ্য একে একে অনেকেই উঠে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু দুই সেনাপতির চোখ এখনও স্থির হয়ে আছে প্রথম উঠে দাঁড়ানো দুই তরুণের উপরেই।
‘প্রদ্যোত আর প্রভাংশু— গুলি চালানোর ট্রেনিং শেষ হয়েছে তোমাদের?’
‘হ্যাঁ মেজর!’ জোরালো গলায় উত্তর দিল দু’জনেই। বেঙ্গল ভলান্টিয়ারের সদস্যদের দস্তুরমতো আর্মি ট্রেনিং দেওয়া হয়। আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ তার মধ্যে একটি।
‘বেশ। তোমাদের দু’জনের উপরই আমরা ভরসা রাখছি। কাল কাঁসাইয়ের পাড়ে চলে আসবে ভোর পাঁচটার সময়। আরও একবার দেখে নেওয়া দরকার, তোমাদের নিশানা কতটা নিখুঁত হয়েছে। তারপর...’
অকম্পিত কণ্ঠে বলে চলেছেন মেজর যতীন দাস।
৩০ এপ্রিল, ১৯৩২। জরুরি মিটিং চলছে জেলা বোর্ডের। সভাপতিত্ব করছেন ডগলাস নিজে। কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে জেলাশাসকের অফিস। গেটের বাইরেও দাঁড়িয়ে রয়েছে সতর্ক সশস্ত্র পুলিশ-বাহিনী।
এমন সময় সাবধানে সেদিকে হেঁটে এল দু’টি অল্পবয়সি ছেলে। একজনের মোটা গোঁফ, পরনে মালকোঁচা দেওয়া ধুতি। অন্যজনের চোখে চশমা, পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুলে নিখুঁত ভালো ছেলের ছাপ। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশন পেয়ে পাশ করেছিল প্রদ্যোত। ভালো ছেলে তো বটেই!
‘দাঁড়াও! এখানে কী চাই?’ কড়া গলার প্রশ্ন।
দুই অনাহূত যুবক অবশ্য থামল না। প্রহরীদের কাছাকাছি এসে চাপা গলায় বলল, ‘ভিতরে যাব। খবর আছে।’
প্রহরীরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। এরকম অবশ্য হামেশাই ঘটে। সমস্ত পুলিশকর্তারই গোপন চর আছে। তারাই খবর নিয়ে আসে— বিপ্লবীরা কোথায় কী করতে চলেছে।
‘এখন দেখা হবে না।’ বলে উঠল পুলিশদের একজন, ‘জরুরি মিটিং চলছে। ভেতরে যাওয়া বারণ।’
মুহূর্তের জন্য একবার দৃষ্টি বিনিময় করল দুই যুবক। তারপর আচমকা আমূল বদলে গেল তাদের চেহারা। জোরালো ধাক্কায় গেট আগলে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশদের ছিটকে দিয়ে ঝড়ের বেগে তারা ঢুকে পড়ল ভিতরে। খুব ভালোভাবেই জানা আছে, ঠিক কোন ঘরে চলছে মিটিং। পাহারাদারেরা সংবিৎ ফিরে পাওয়ার আগেই তারা ঢুকে পড়ল সেই ঘরে।
‘ওই যে, মাঝখানে বসে আছে শয়তান!’ চেঁচিয়ে উঠল তাদের মধ্যে একজন।
নড়ার সময় পেল না ঘরে বসে থাকা কর্তারা। তার আগেই গর্জে উঠল বন্দুক। প্রকাণ্ড সুসজ্জিত ঘরটা যেন মুহূর্তে বদলে গেল রণক্ষেত্রে। ডাকাবুকো ইংরেজ হোমড়াচোমড়ার দল কেউ চেয়ারের পিছনে, কেউ টেবিলের নীচে গা ঢাকা দিয়েছে। ছুটে পালানোর চেষ্টা করছে কেউ কেউ।
ততক্ষণে অবশ্য সামনের টেবিলে মুখ থুবড়ে আছড়ে পড়েছে অত্যাচারী জেলাশাসক রবার্ট ডগলাসের দেহ। দেখলেই বোঝা যায়, সেই দেহে প্রাণ নেই।
পরক্ষণেই বিদ্যুৎবেগে সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এল দুই যুবক— প্রভাংশু আর প্রদ্যোত। ঝলমল করছে তাদের মুখ। কাজ শেষ। নিখুঁতভাবে নিজের নিজের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে তারা। এবার পালানোর পালা।
ততক্ষণে অবশ্য সামলে উঠেছে সশস্ত্র পুলিশের দল। গুলি ছুড়তে শুরু করেছে তারাও। ঘুরে দাঁড়িয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি তাদের দিকে ছুড়ে দিল প্রদ্যোত আর প্রভাংশু। তারপর প্রাণপণে ছুটতে লাগল বাইরের গেটের দিকে। পিছন পিছন ছুটে আসছে পুলিশও।
একটু এগিয়েই পরিকল্পনা অনুযায়ী আলাদা হয়ে গেল ওরা দু’জন। হকচকিয়ে গেল পুলিশের দল। দাঁড়িয়ে পড়ল মুহূর্তের জন্য। আর ঠিক সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়েই তাদের চোখের আড়াল হয়ে গেল প্রভাংশু। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল ও। চটপট নকল গোঁফ খুলে ফেলল ছুটতে ছুটতেই। পিস্তল আর গুলি লুকিয়ে ফেলল একটা কালভার্টের নীচে। তারপর এক মুহূর্ত দেরি না করে সোজা ছুট লাগাল নিজের মামার বাড়ির দিকে।
প্রদ্যোতের পালানোটা অবশ্য এতটা মসৃণ হল না। ওকে চোখের আড়াল করেনি পুলিশ। মুহুর্মুহু ছুটে আসছে গুলি। কয়েকবার পিছন ফিরে নিজেও গুলি চালানোর চেষ্টা করল ও।
আর এইবার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল প্রদ্যোতের। যে কারণেই হোক, পিস্তলটা লক হয়ে গেছে। গুলি বেরচ্ছে না। সর্বনাশ! ঠিক এই সময় খারাপ হয়ে গেল বন্দুকটা!
নিজের সবটুকু শক্তি এক করে ছুটতে লাগল প্রদ্যোত। পাশেই একটা পোড়ো বাড়ি। ঝড়ের দিকে সেটাতেই ঢুকে পড়ল ও।
নাহ্, পুলিশ বুঝতে পেরে গিয়েছে— ও এখানে লুকিয়েছে। ঘিরে ফেলেছে বাড়িটা। ভাঙা দেওয়ালে হেলান দিয়ে নোংরা মেঝেটায় বসে পড়ল প্রদ্যোত। হাঁপাচ্ছে পাগলের মতো।
একটাই উপায় আছে। নেতারা এই শেষ উপায়টাও বলে দিয়েছিলেন কাঁধে হাত রেখে, অকম্পিত কণ্ঠে।
পিস্তলের নল নিজের কপালের ডানপাশে ঠেকিয়ে ট্রিগার টিপে দিল ও।
এবং কিচ্ছু হল না। আবার ওকে নিরাশ করল অচল হয়ে যাওয়া বন্দুকটা।
এক লাফে ভাঙা জানলা টপকে বাইরের রাস্তায় গিয়ে পড়ল প্রদ্যোত। ফের ছুটতে শুরু করল তিরবেগে। এবারেও পিছু নিয়েছে পুলিশের দল।
আর তারপরেই ঘনিয়ে এল চরম সর্বনাশ! রাস্তায় পড়ে থাকা একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে ছিটকে পড়ল প্রদ্যোত। চোখের পলকে ওর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল পুলিশের দলটা।
প্রদ্যোতের জ্ঞান ফিরল মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে। সর্বাঙ্গ টনটন করছে অসহ্য যন্ত্রণায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রাণ বাঁচাতে না পেরে ব্যর্থ আক্রোশে প্রাণ ভরে ওকে পিটিয়েছে ইংরেজ পুলিশের দল।
‘জ্ঞান ফিরেছে তাহলে? কী নাম তোর?’
কোনোক্রমে চোখ মেলে সামনের দিকে তাকাল প্রদ্যোত। চেয়ারের ওপর বসে আছে এক অপরিচিত সাহেব। তার দু’চোখে অপরিসীম হিংস্রতা।
‘প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য।’ ঠান্ডা গলায় বলল ও।
‘তোর সঙ্গে যে ছিল, তার নাম কী?’
‘তাকে আমি চিনি না।’
‘শেষবারের মতো জিজ্ঞেস করছি, নামটা বলে দে। তোদের এ কাজে পাঠিয়েছিল কে?’
‘বললাম তো, আমি কাউকে চিনি না। একাই...’
‘ওর একটা একটা করে নখ উপড়ে ফেল। দেখি, কতক্ষণ চুপ করে থাকে।’ কয়েক সেকেন্ডে নীরবতার পর গর্জন করে উঠল লোকটা।
ইতিমধ্যেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া শরীরে এই অবিশ্বাস্য যন্ত্রণা অবশ্য খুব বেশিক্ষণ সহ্য করতে হল না প্রদ্যোতকে। একটু পরেই আবার অজ্ঞান হয়ে গেল ও।
এর পরের দিনগুলো যেন আবছায়া হয়ে গেল প্রদ্যোতের চোখে। একটা একটানা অমানুষিক যন্ত্রণার অনুভূতি। চব্বিশ ঘণ্টা চোখের উপরে জ্বলে থাকা চড়া আলো, অবিশ্বাস্য যন্ত্রণা, খিদে, ঘুম পাওয়া, জোর করে জাগিয়ে রাখা। হাতে-পায়ে একটাও নখ বাকি নেই, ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে চুল...
আবছা হয়ে যাওয়া চেতনায় একদিন হঠাৎ করে ভেসে ওঠে কোনো বন্ধুর মুখ। ওকে ভাঙতে না পেরে তুলে আনা হচ্ছে ওর বন্ধুদের। ওর চোখের সামনে তাদের উপরে অত্যাচার চলে প্রভাংশুর নামটা জেনে নেওয়ার জন্য। ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে সেই নরকের যন্ত্রণা ভোগ করে চলল প্রদ্যোত। একটা শব্দও বেরল না ওর মুখ থেকে। ধরে আনা হল ওর দাদা শর্বরীভূষণ ভট্টাচার্যকে। অমানুষিক নির্যাতন করা হল রক্তাক্ত ভাইয়ের সামনে। শারীরিক আর মানসিক সেই ভয়ংকর নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে উন্মাদ হয়ে গেলেন তিনি। বাকি জীবনটা কাটিয়েছিলেন উন্মাদাগারে।
‘একে চিনিস?’ একদিন হঠাৎ ভেসে এল অপরিচিত গলার প্রশ্ন।
চোখ খুলে প্রদ্যোতের মুখ ভয়ে সাদা হয়ে গেল। প্রভাংশু ধরা পড়ে গিয়েছে তাহলে? কিন্তু ওর মুখে তো কোনো ভয়ের ছায়া নেই! বরং চোখে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা। কিছু একটা গোলমাল রয়েছে।
উত্তর অবশ্য তৈরিই ছিল প্রদ্যোতের মুখে। সোজাসুজি বলল, ‘না তো! কে এই ছেলেটা?’
পরমুহূর্তেই যেন আগুনের হল্কায় পুড়ে গেল ওর সর্বাঙ্গ। ফালা ফালা হয়ে যাওয়া পিঠের উপরে লংকার গুঁড়ো ঘষে দিচ্ছে কেউ।
‘বললাম তো চিনি না! এ আমাদের দলের কেউ নয়।’ গলা চিরে চিৎকার করে উঠল প্রদ্যোত।
ছদ্মবেশে থাকায় প্রভাংশুকে চিনতে পারল না কেউ। বেকসুর ছাড়া পেয়ে গেল ও। আর সেই রাগটাও এসে পড়ল প্রদ্যোতের উপরে।
‘তোরা কেমন বিপ্লব করবি রে প্রদ্যোত! এমন একটা রিভলভার নিয়ে গেলি, যেটা কাজের সময় নষ্ট হয়ে গেল?’ হাসতে হাসতে এক বাঙালি পুলিশ অফিসার বললেন একদিন।
বহু কষ্টে চোখের পাতাটা খুলে হাসল প্রদ্যোত। তারপর বলল, ‘কপাল, বুঝলেন স্যার। তা না হলে না আপনি বেঁচে থাকতেন, না আমি থাকতাম এই অবস্থায়।’
১৯৩২-এর ১২ জানুয়ারি ভোরে প্রদ্যোতকে ফাঁসিকাঠে তুলল শাসক ইংরেজ। শেষ মুহূর্তে নতুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ প্রথা অনুযায়ী চেঁচিয়ে বললেন, ‘আর ইউ রেডি?’
ফাঁসির মঞ্চ থেকে ভেসে এল এক অপরাহত বীর বিপ্লবীর হাসি-ভরা গলা, ‘বরং তুমি তৈরি হও বার্জ। এরপর তোমার পালা!’
এই তাঁর শেষ কথা।



